Pre-loader logo

উদ্বোধন যে কোনো সময়

উদ্বোধন যে কোনো সময়

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হাসপাতালটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের জন্য পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি চালুর জন্য ডাক্তার, নার্স নিয়োগ হয়েছে, এখন সাপোর্টিং স্টাফসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের কাজও প্রক্রিয়াধীন।

আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো জোনে দুই হাজার ১৩ বেডের আইসোলেশন সেন্টারের পাশাপাশি ৭১ বেডের আইসিইউ ইউনিট থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা সিটি বিভাগ) মো. মাসুদুল আলম বলেন, ‘আমরা এখন হাসপাতাল উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি। হাসপাতালের যত অবকাঠামোগত কাজ রয়েছে এগুলো আমরা শতভাগ শেষ করে ফেলেছি। এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আমরা বুঝিয়ে দেব। এখানে একজন পরিচালক পোস্টিং হয়েছেন, উনাদের সহকারী পরিচালকসহ কয়েকজন জনবলও নিয়োগ হয়েছে। উনাদের অফিসের কাজও রেডি হয়ে গেছে, এখন উনারা অফিসে বসলে আমরা ফিজিক্যালি বুঝিয়ে দেব। এখন এ হাসপাতাল অপারেশনের জন্য প্রস্তুত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখনই এটাকে মনে করবে চালু করা প্রয়োজন তখনই চালু করতে পারবে। ডাক্তার, নার্সও নিয়োগ হয়ে গেছে। তবে সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগের প্রসেসিং চলছে।’

আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরাও হাসপাতালের উদ্বোধন অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন মহল আসছে, দেখে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উদ্বোধনের তারিখ হয়নি। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, বসুন্ধরার কাছ থেকে আইসিসিবির স্থাপনাগুলো বুঝে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল থেকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অস্থায়ী হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৫ দিনের মধ্যেই আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে দেশের এই ক্রান্তিকালে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর একটি দল আইসিসিবি পরিদর্শন করে। পরে এটাকে অস্থায়ী হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে দুই হাজার ১৩ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন এবং ৭১ বেডের আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো জোন, দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। যত দিন এ মহামারি থাকবে এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.