Pre-loader logo

ওপার বাংলার শেখ রাসেলের হাত ধরে এবার কি তবে শ্রী ফিরতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলে?

ওপার বাংলার শেখ রাসেলের হাত ধরে এবার কি তবে শ্রী ফিরতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলে?

শ্রী সিমেন্টের হাত ধরার পর ইস্টবেঙ্গলের অবস্থা ক্রমশ হতশ্রী হয়েছে। শ্রী হারিয়ে এবারের আইএসএল-এ এখন ‘লাস্ট বয়’ এসসি ইস্টবেঙ্গল। চির প্রতিপক্ষ এটিকে মোহনবাগান যখন খেতাব জেতার লক্ষ্যে ছুটে চলেছে, তখন লাল-হলুদ শিবিরে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। লাল-হলুদ সমর্থকরা এখন চরম হতাশাগ্রস্ত। শ্রী সিমেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের এখন আকাশ-পাতাল দূরত্ব। এর মধ্যেই শোনা গেল কিছুটা খুশির খবর। বাঙালদের ক্লাব বলে খ্যাত ইস্টবেঙ্গলে ওপার বাংলার হাত ধরেই আসতে পারে সুখের দিন। আসলে শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে মশাল ব্রিগেডের মধুচন্দ্রিমা এখন শেষের পথে। আইএসএল শেষ হলেই সমাপ্ত হবে এই সম্পর্ক। কান পাতলে, এমনটাই শোনা যাচ্ছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির আশেপাশে। পরবর্তী মরসুমে নতুন স্পনসর নিয়েই দল গঠন করবে ইস্টবেঙ্গল।

আর সেই পথেই যে হাঁটছে চলেছে মশাল ব্রিগেড, সেটা বোঝা যাচ্ছে তাদের কার্যকলাপে। ময়দানের ফুটবল মহলের ধারণা বাংলাদেশের হাত ধরেই এবার শ্রী ফিরতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলে। গতকাল সন্ধেয় বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ণধার সহ প্রায় ১৬ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে বাইপাসের ধারে একটি পাঁচতারা হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছেন লাল-হলুদ কর্তারা। ইস্টবেঙ্গলের আমন্ত্রণেই এই দলটি কলকাতায় এসেছে। আজ সকালে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় ক্লাব তাঁবুতে। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবাহান তানভীর হচ্ছেন দেশটির জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কর্ণধার। এদিকে, ময়দানের খবর, বাংলাদেশের শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। ফুটবল দুই বাংলার সঙ্গেই ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত।

বাঙালি মানেই ফুটবল। তাই দুই বাংলার ফুটবলে আরও উৎকর্ষ আনতে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও ইস্টবেঙ্গল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে দু’টি ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল। আজ কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের আবেগতারিত হয়ে এই কথা জানান শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কর্ণধার সায়েম সোবাহান তানভীর। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আজীবন সদস্য পদও আজ তুলে দেওয়া হয় বসুন্ধরা গ্রুপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে। এদিন লেসলি ক্লডিয়াস সরণির লাল-হলুদ তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন জনাব তানভীর সাহেবের স্ত্রী সাবরিন তানভীরও। সেই সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হক হাসান।

এদিনের অনুষ্ঠান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনও। গোটা আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে আজ শুধু বাঙালি আবেগ। সোবাহান সাহেব তো বলেই দিলেন ‘আজ আমি যা ভালবাসা পেলাম, তা শুধু তাকে মুগ্ধই করেনি বরং আপন করে নিয়েছে। এপার বাংলা,ওপার বাংলা মিলেমিশে যেন আজ এক অপার বাংলা তৈরি হয়েছিল।’ এরপর তিনি বসুন্ধরা কিংস এর সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার জন্যও আমন্ত্রণ জানান ইস্টবেঙ্গলকে। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত। তিনিও বসুন্ধরা কিংসকে আইএফএ শিল্ড খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

আজ শতাব্দী প্রাচীন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তাঁবুতে দুই বাংলা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। ক্লাব সদস্য এবং কর্মকর্তাদের বেশির ভাগ এসেছিলেন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ধুতি-পাঞ্জাবি পরে। কেউ আবার পরেছিলেন কুর্তি। মহিলারা শাড়ি পরে আজ বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান পদ্মা পারের আরেক ফুটবল ক্লাবের প্রতিনিধিদের। এখানেই শেষ নয়, ছিল গান বাজনার অনুষ্ঠানও। সেই সঙ্গে ছিল, পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার স্মৃতিমেদুর আবেগঘন বক্তব্য। শেখ রাসেলের কর্ণধার সোবাহান সাহেবকে আজ জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি ভবিষ্যতে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে চলতে চান? উত্তরে সরাসরি তেমন কিছু না বললেও ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত কিন্তু তিনি দিয়ে গিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার (নীতু)-কে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে হলে অবশ্যই ভাল হয়। পুরো ব্যাপারটাই আলোচনা সাপেক্ষ।”

১৯২০ সালের ১ আগষ্ট ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রধানত ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষেরাই এই ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগেই ১৯১১ ঘটিদের ক্লাব হিসাবে পরিচিত মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড জিতে ভারতের ফুটবলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ওপার বাংলা থেকে আসা বাঙালিদের সেরকম পাত্তা দিতেন না মোহনবাগান সমর্থকরা। সেই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে গঙ্গা ও পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। ১০২ বছরের প্রাচীন ক্লাব ইস্টেবঙ্গলকে নিয়ে ফুটবলমোদী দর্শকদের উন্মাদানা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্য দিকে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর নাম। তাই যদি এই দুটো ক্লাবের মধ্যে মিলন হয়, তাহলে বাঙালির ফুটবল এক নতুন দিশা পাবে। সেই আশাতেই বুক বাঁধতে শুরু করে দিয়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা।

 

Source : Prothom Kolkata

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir.
All Rights Reserved.