Pre-loader logo

কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পুরান ঢাকার স্বাদ

কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পুরান ঢাকার স্বাদ

পবিত্র রমজান মাস সমাগত। বলা যায়, আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হয়ে যাবে মাহে রমজান। যদিও রমজান শুরুর দিনক্ষণ ঠিক হবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বরকতময় এই একটি মাস ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। প্রস্তুতি চলছে রমজানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও।
রমজানে সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর সন্ধ্যায় রোজাদারের ইফতার পর্বে বরাবরই একটা বাড়তি উদ্যোগ-আয়োজন থাকে। এই আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে ভিন্নস্বাদের খাবার ও পানীয়। এ জন্য রাজধানী ঢাকার অনেকেই ছোটেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারসামগ্রীর সন্ধানে। কিন্তু তীব্র যানজট ও মানুষের ভিড় ঠেলে সেখানে যাওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় দুরূহ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও ঢাকার বিখ্যাত সব সুস্বাদু ইফতারসামগ্রী নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বসছে ইফতার মেলা। প্রায় মাসব্যাপী এই আয়োজনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির পাশাপাশি পাওয়া যাবে দেশীয় নামিদামি ব্র্যান্ডের সব খাবার ও পানীয়। থাকবে তাজা ফলমূল ও শরবতের ব্যবস্থা।
আসন্ন রমজানে আইসিসিবির গুলনকশা হলে ৮৩টি স্টল বসছে ইফতারসামগ্রী নিয়ে। সেখানে ২৭ রমজান পর্যন্ত চলবে এই ইফতার মেলা। গত বছর থেকে এ ধরনের মেলা করে আসছে আইসিসিবি।
আজকাল ঘরের বাইরে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা পার্টি সেন্টারেও ইফতারির আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে থাকে সীমিত কয়েক ধরনের আইটেম। ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ পড়ার সুব্যবস্থাও থাকে না অনেক জায়গায়। তবে বসুন্ধরার এই ইফতার মেলায় থাকছে একসঙ্গে অনেকে মিলে ইফতার করার ব্যবস্থা। রয়েছে অজু ও নামাজের সুব্যবস্থা।
আগতরা যাতে আত্মীয়পরিজন, সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করতে পারেন সে জন্য আইসিসিবির ওই হলটিতে পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থা থাকছে। এর জন্য ভোক্তাকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বরং আইসিসিবির একটি পরিদর্শক দল সেখানে বিক্রি হওয়া সব খাবার ও পানীয়ের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে। এই মেলায় বসেই ইফতারের পাশাপাশি থাকছে পার্সেলের সুব্যবস্থাও। পুরো মেলাটি আয়োজন হতে যাচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়।
জানা গেছে, আইসিসিবির ইফতার মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অতিথিদের সর্বোচ্চ ৩০ জনের একটি দলের জন্য কোনো ধরনের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না। গাড়ি রাখার জন্যও রয়েছে প্রশস্ত পার্কিং ব্যবস্থা।
ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড, ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়েসংলগ্ন আইসিসিবিতে এবারের ইফতার মেলায় প্রচলিত আইটেমের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কিছু আইটেম নিয়ে আসবে কাবাব ফ্যাক্টরি, ইকবাল ক্যাটারিং, সুব্রত আলী, ইব্রাহিম ক্যাটারিং, রয়েল কুকিং, তারকা বনানী, আল-সাফারী রেস্টুরেন্টসহ প্রসিদ্ধ বেশ কিছু খাবারের রেস্তোরাঁ।
পাওয়া যাবে বিউটির লাচ্ছি ও ফালুদা, হামদর্দের রুহ আফজা, রয়েলের লাবাং ও পেস্তা বাদামের শরবত, কলকাতা কাচ্চি ও জাফরানের শরবত, বোরহানি, ফিরনি ও দই, মোরগ পোলাও, জব্বারের শাহি দইবড়া ও শাহি জিলাপি, নান্না মিয়ার বিরিয়ানি, ফখরুলের চাপ, চিকেন টিক্কা, জালি কাবাব, সুতি কাবাব, কোপ্তা, খাসির গ্লাসি, টিকিয়া কাবাব, শাহি টুকরা, শাহি হালিম, খাসির রানের রোস্ট, মোল্লার হালিম, নুরানি লাচ্ছি, পনির, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, ছানামাঠা, কিমা পরোটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, ফরমালিনমুক্ত খেজুর, ভেজালমুক্ত আলু চপ, ডিম চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, পাকোড়া, পুরি, শিঙাড়া, সমুচা ইত্যাদি পদের খাবার। পাশাপাশি শসা, ধনেপাতা, নিমকি, চানাচুর ও মিষ্টিজাতীয় মুখরোচক বিভিন্ন খাবারও থাকছে।
মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের আইসিসিবি হেড অব অপারেশনস এম এম জসীম উদ্দিন বললেন, ‘পুরান ঢাকার বাইরে যাঁরা বাস করেন তাঁদেরও ঐতিহ্যবাহী ওই সব ইফতারির স্বাদ নিতে ইচ্ছে করে। আর সামর্থ্য থাকলেও যানজট ও নিরাপত্তার কারণে তাঁরা সেখানে যেতে পারেন না। তাই আমরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পুরান ঢাকার ইফতারি নিয়ে মেলার আয়োজন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকার ইফতারসামগ্রী অনেকটা খোলা পরিবেশে তৈরি হয়। আমাদের এখানে সুস্বাদু খাবারগুলো তৈরি করা হবে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির নিজস্ব রান্নাঘরে। এ ছাড়া এখানে ইফতার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখানে সর্বোচ্চ ৩০ জনের একটি দল বিনা খরচে ইফতার পার্টি করার মতো ব্যবস্থাও থাকছে।’
ইফতার মেলার পাশাপাশি রোজার সপ্তম দিন থেকেই আইসিসিবিতে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পোশাক, গয়না ও প্রসাধনীর প্রদর্শনী। ‘সাউথ এশিয়ান ফ্যাশন অ্যান্ড লাইফস্টাইল ফেস্ট-২০১৬’ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীতে ভারত, থাইল্যান্ড, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের এক শটির মতো স্টল থাকবে। এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ হলে। ২৫ রমজান পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেল, প্রদর্শনীতে দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেলদের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন। এই আয়োজনে প্রতিদিন একটি পোশাককে ওই দিনের সেরা পোশাক হিসেবে নির্বাচন করা হবে। আমন্ত্রিত মডেলদের নিয়ে আয়োজন করা হবে ফ্যাশন শো। এ ছাড়া বড় অঙ্কের কেনাকাটা করলে নির্ধারিত জোনে মডেলদের সঙ্গে সেলফি তোলারও সুযোগ মিলবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করে তাৎক্ষণিক উপহার পাওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.