Pre-loader logo

ক্রিকেটে দারুণ দল গড়ল শেখ জামাল

ক্রিকেটে দারুণ দল গড়ল শেখ জামাল

চৈত্রের তপ্ত দুপুর। ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ হঠাৎই হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। স্লোগানে। মিছিলে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের জন্য সাড়ম্বরে যে এসেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব! উৎসবের আমেজে দলবদল করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে রাখে পরাশক্তি হওয়ার পথে থাকা দলটি।
এই তো গেল ৮ মার্চ নতুন করে গঠিত হয় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কমিটি। সেখানে ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। ক্রিকেট দলবদলের আগে এরপর দিন দশেক সময়ও ছিল না। কিন্তু ওইটুকুন সময়ের ভেতরই দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে শেখ জামাল। যে দল গঠনে নতুন ক্লাব সভাপতির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই তো বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান বলেছিলেন, ‘ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। নতুন কিছু পরিকল্পনাও আছে আমার। দেশের প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে ভীষণ আগ্রহী। তাঁর সেই আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে আমি এই ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছি।’ তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যে ক্রিকেট দল গঠিত হলো, তা নিঃসন্দেহে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই।
শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবে কাল নাম লিখিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, নুরুল হাসান, সোহাগ গাজী, তানবীর হায়দার, ইলিয়াস সানি, জিয়াউর রহমান, ফজলে রাব্বি, রাজিন সালেহ, শাহাদাত হোসেন, নাজমুল হোসেনের মতো পরীক্ষিত পারফরমাররা। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা ইমরুল কায়েসকেও নিশ্চিত করেছে। এই দল নিয়ে ভালো কিছুর আশাই করছেন অধিনায়ক রাজ্জাক, ‘আমাদের দল ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। মিডল অর্ডারে একজন ভালো বিদেশি যোগ হলে যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে পারব। আমাদের প্রথম লক্ষ্য সুপার সিক্সে ওঠা। এরপর তো যেকোনো কিছুই সম্ভব। সম্ভব শিরোপা জেতাও।’ মাঠে ভালো খেলার বড় একটা প্রণোদনা এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ক্রিকেটাররা। চুক্তির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টাকা মাঠে নামার আগেই পেয়ে গেছেন সবাই। এটি বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বলে বিশ্বাস রাজ্জাকের, ‘পারিশ্রমিক নিয়ে আমরা সব সময় টেনশনে থাকি। এবার আমাদের দলের কারো সেই টেনশন করতে হচ্ছে না। যতটুকুন জানি, আমাদের ক্লাবের সবাই ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টাকা পেয়ে গেছি। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠান অল্প সময়ে দায়িত্ব নিয়ে খেলোয়াড়দের এভাবে উদ্বুদ্ধ করায় আমরাও ভালো খেলতে চাই। চাই আমাদের প্রতি ক্লাবের আস্থার প্রতিদান দিতে।’
দলবদলের প্রথম প্রহরের আকর্ষণ যদি হয় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব, শেষ সময়ের তাহলে মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাঁর অপেক্ষায় সবাই অথচ বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেট অধিনায়কের দেখা নেই। খোঁজ খোঁজ রব চারদিকে। অবশেষে ফোনের ও প্রান্ত থেকে মাশরাফির কণ্ঠ, ‘ভাই, আমি তো ভুল করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে চলে এসেছি। মিরপুর স্টেডিয়ামে কখনো ঢাকা লিগের দলবদল হয়নি। আমি তাই ভেবেছি এবারও আগের জায়গাতেই দলবদল হবে।’ অবশেষে দলবদলের নির্ধারিত সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টার কয়েক মিনিট পেরিয়ে তবেই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সিসিডিএম সভাকক্ষে আসেন মাশরাফি। কমিশনে দলবদল করে নাম লেখান লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবে।
রূপগঞ্জে মাশরাফি ছাড়াও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের নাম লেখানো নিশ্চিত। নিশ্চিত ছিলেন মাহমুদ উল্লাহও। কিন্তু শেষ সময়ে আবাহনী টেনে নেয় তাঁকে। এ নিয়ে অবশ্য আলাদা কিছু বললের না মাশরাফি, ‘আমি ব্যাপারটা ঠিক জানি না। আসলে দল করতে গেলে অনেকের সঙ্গেই কথা হয়।’ আম্পায়ারিং নিয়ে রূপগঞ্জের বরাবরের অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য না করে মাঠের ক্রিকেটে ভালো করার প্রতিজ্ঞা ঝরে মাশরাফির কণ্ঠে।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী সদলবদলে দলবদল করবে আজ। কাল কেবল শুভাগত হোম, সানজামুল ইসলাম ও সাইফ উদ্দিনকে দলে ভিড়িয়েছে। মোহামেডান মাঠের ক্রিকেটের মতো ধুঁকছে দলবদলের বাজারেও। কাল রকিবুল হাসান ও ইবাদত হোসেনকে সই করিয়েছে তারা; বাদবাকিদের আজ। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ভালো দল গড়েছে নাসির হোসেন, সোহরাওয়ার্দি শুভ, নাঈম ইসলাম, শফিউল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবুদের নিয়ে। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে এসেছেন আল আমিন হোসেন, আসিফ আহমেদ, জাকির হোসেনরা। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের শক্তিশালী দল মোহাম্মদ আশরাফুল, তুষার ইমরান, মেহরাব হোসেন, নাবিল সামাদ, সনজিৎ সাহা, সালেহ আহমেদ শাওন গাজীদের নিয়ে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল তাই কম হয়নি। আগামী মাসে মাঠে গড়ানো প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের মতো নবাগত পরাশক্তির চ্যালেঞ্জটা তাই যেন একটু বেশিই।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.