Pre-loader logo

ক্রেতা-বিক্রেতার প্রীতির বন্ধন – বসুন্ধরা সিটি শপিং মল

ক্রেতা-বিক্রেতার প্রীতির বন্ধন – বসুন্ধরা সিটি শপিং মল

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের কেনাকাটা। রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে রাজধানীর সব বিপণিবিতান এখন জমজমাট। গতকাল শনিবার ছুটির দিন বিকেলে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ঘুরে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের তুমুল ব্যস্ততা। বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা হতেই ভিড়ভাট্টা আরো বেড়ে যায়। তবে দৃশ্যপট পাল্টে যায় ইফতারের আগের মুহূর্তে। দোকানের কর্মচারীরা ইফতারি সাজাচ্ছিলেন। মার্কেটের মাইকে ভেসে এলো মাগরিবের আজান। বন্ধ হয়ে গেল বেচাকেনা। দোকানি-ক্রেতারা একসঙ্গে বসে পড়েন ইফতার করতে। ক্রেতা-বিক্রেতার এমন প্রীতির বন্ধন দেখা গেল বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে।
ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক অনেক সময়ই মধুর হয় না। দরদাম নিয়ে তুমুল বচসাও হয়। কিন্তু ইফতারের সময় দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতারা বন্ধুত্বপূর্ণ আবহে একসঙ্গে ইফতার করছেন। দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন উত্তরার বাসিন্দা পারভেজ মোল্লা। কেনাকাটা করতে করতে ঘনিয়ে আসে ইফতারের সময়। তখন দোকানিদের অনুরোধে তিনি বসে পড়েন ইফতারে। কেনাকাটার ফাঁকে এমন ইফতারের দৃশ্য দেখা গেল বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে।
এরই মধ্যে ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী। যারা গ্রামে ঈদ করবে, তাদের অনেকে বাড়ির পথে। তারা আগেই কেনাকাটার কাজটি সেরেছে। তবে যারা ঈদ করবে ঢাকায়, তাদের কেনাকাটা চলছে পুরোদমে। চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলা হয়। রাস্তাঘাট ছিল বেশ ফাঁকা। তবে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানের সামনে প্রচুর ভিড় দেখা যায়।
গতকাল বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ঘুরে দেখা গেল, প্রবেশপথেও ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। কেউ ভেতরে প্রবেশ করছে, কেউ বা কেনাকাটা সেরে হাতভর্তি ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা শপিং মল বসুন্ধরা সিটিতে এখন রীতিমতো উৎসবের আমেজ। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রমজানের প্রথম থেকেই জমে উঠেছে এখনকার ঈদের কেনাকাটা। সংসারের সব জিনিস একসঙ্গে পাওয়ার জন্যই বিভিন্ন উৎসবে ক্রেতারা বসুন্ধরা শপিং মলকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দের জায়গা মনে করে। এখানে কেনাকাটা করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও আসে মানুষজন।
নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ক্রেতাই এখন কেনাকাটা করতে পছন্দ করে বসুন্ধরায়। সব শ্রেণির ক্রেতার কথা বিবেচনা করে বিক্রেতারাও ঈদের বাহারি সব পণ্যে সাজিয়েছেন দোকানগুলো।
বসুন্ধরা সিটিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন আবুল হাসনাত। সঙ্গে স্ত্রী মার্জিয়া লিনা। কথা প্রসঙ্গে আবুল হাসনাত বলেন, ‘বসুন্ধরায় পরিবেশটা মনোরম। একসঙ্গে অনেক দোকান থাকায় বেছে ভালোটা কেনা যায়। দরদামও করা যায়।’
ইফতারের আগে বসুন্ধরার লেভেল-৮-এ গিয়ে দেখা যায়, এখানকার সব খাবারের দোকানে ইফতারি সাজিয়ে বসে আছে ক্রেতারা। অনেকে জায়গা না পেয়ে দোকান থেকে ইফতারি কিনে খুঁজছে ফাঁকা জায়গা, যেখানে বসে ইফতার করা যাবে। ইফতার সেরে আবার শুরু হয় কেনাকাটা। দোকানিরা ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, ক্রেতারাও ঘুরে ঘুরে কেনে পছন্দের জিনিসটি।
বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, বাহারি ডিজাইনের নতুন পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ সব ধরনের দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। দোকান ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় ও পছন্দের জিনিস কিনছে তারা। আলমাস, ইনফিনিটি, এসটেসি, ক্যাটস আই, ওয়েসটেকসহ কয়েকটি মেগা মলে চলছে হরদম বেচাকেনা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের শেষ দিকে এসে বেচাকেনা বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে ঠিক করা বিক্রির টার্গেট অর্জন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি পোশাকের দোকানগুলোতে। ইনফিনিটির বিক্রয় কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের মূল আকর্ষণই থাকে পোশাকের প্রতি। প্রথমে পোশাক কেনে, এরপর অন্য কিছু।
মিরপুর থেকে শপিংয়ে এসেছিলেন সোলায়মান হোসেন। দেশি দশ থেকে পছন্দের পাঞ্জাবি কিনে তিনি বলেন, ‘সব সময়ই শপিং করার জন্য আমার কাছে সেরা বসুন্ধরা সিটি। এখানে অনেক দোকান। ফলে ঘুরে ঘুরে ভালো জিনিসটি কেনা যায়। এ ছাড়াও এখানকার পরিবেশটা চমত্কার।’

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.