Pre-loader logo

জয়ে শুরু বসুন্ধরা কিংসের

জয়ে শুরু বসুন্ধরা কিংসের

নতুন মৌসুমে ‘নতুন’ বসুন্ধরা কিংস দারুণ শুরু করেছে ফেডারেশন কাপে। চার বিদেশিতে কিংসের নতুন রূপ। ফরোয়ার্ডে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের লাতিন ছন্দ। সেই ছন্দে কিংস ৩-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে।

ফুটবল খেলাটা এগারোজনের, তবে ফুটবলের সুরভি ছড়িয়েছেন দুই ব্রাজিলিয়ান রবসন রোবিনহো, জোনাথন ফার্নান্দেজের সঙ্গে আর্জেন্টাইন রাউল বেতেরা। এই ত্রয়ীতে কিংসের খেলাটা এমন খুলেছে, বাকিরা পড়ে গেছেন তাঁদের ছায়ায়। মাঝমাঠে তাঁদের কয়েকটি মুভমেন্ট ছিল দেখার মতো। এর পরও মাত্র এক বিদেশি নিয়ে খেলা রহমতগঞ্জের জালে বল পাঠাতে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪২ মিনিট পর্যন্ত। তাই বোধ হয় কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন খুব খুশি হতে পারেননি, ‘আমরা জিতেছি, ঠিক আছে। সব সময় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ কঠিন হয়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতেই আমাদের ২৫ মিনিট লেগে গেছে, এরপর আমরা খেলেছি। তবে মাঝমাঠে যে রকম বিল্ডআপ ফুটবল আশা করেছিলাম, সেটা হয়নি। তাই এটা আমার সেরা ম্যাচ নয়।’

৯ মাস পর দেশে ফুটবল শুরু হয়েছে। ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতিতে কভিডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই দেশের ঘরোয়া ফুটবল মাঠে গড়িয়েছে। এমনিতেই ঘরোয়া ফুটবল দর্শকহীন, সুবাদে খেলা শুরু করতে তেমন বাধা নেই। তা ছাড়া মাঠ জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে এবং দুই দল কভিড পরীক্ষা করিয়েই মাঠে নেমেছে বলে আয়োজকদের দাবি। সুতরাং ৯ মাস পর ফুটবলে স্বাভাবিকতা ফিরতে কোনো বাধা ছিল না। এই ফেরার ম্যাচে কিংস ১১ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত। রবসন রোবিনহোর ক্রসে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার অস্কার বেতেরার হেড ফিস্ট করে রাসেল মাহমুদ রক্ষা করেছেন রহমতগঞ্জের গোলপোস্ট। ৪৩ মিনিটে গিয়ে এই আর্জেন্টাইন লক্ষ্যভেদ করেন হেডে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জোনাথন ফের্নান্দেজের ফ্রি কিকে চমৎকার হেডে এগিয়ে নেন গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। এই ১-০ গোলের লিডে তারা বিরতিতে যায়।

ফেরার পরই কিংসের খেলায় যেন গতি বাড়ে। মাঝমাঠের খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে বিল্ডআপে উন্নতি হয় এবং তিন বিদেশিতে চমৎকার কয়েকটি ফরোয়ার্ড মুভমেন্টে সুরভিত হয়ে ওঠে ফুটবল। যেমন—৫০ মিনিটে রাউল বেতেরার দুর্দান্ত লবটি, পেছন থেকে এত চমৎকার তুলে দিয়েছেন। তাতে গোলমুখ খুলে গেলেও ব্রাজিলিয়ান ফের্নান্দেজ গোলরক্ষককে একা পেয়েও ফিনিশ করতে ব্যর্থ। ৫৪ মিনিটে রহমতগঞ্জ ডিফেন্ডার মাহমুদুল কিরণের ভুলে বল পড়ে রবসন রোবিনহোর পায়ে। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পোস্টে তুলে দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান লিড বড় করেন। পরের সাত মিনিটে দুর্দান্ত দুটি মুভ দেখা গেছে রাউল বেতেরা ও রবিনহোর সংগতে, দুয়ে মিলে এত চমৎকার দুটি বল বের করেও গোলের শোভা দিতে পারেননি। এখানেই আসলে অতৃপ্তি। এ রকম চমৎকার মুভ যখন গোলে শেষ হবে তখনই ম্যাচের সুরভি বাড়বে। আর এগুলো অনেক দিন থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে।

৬৫ মিনিটে তারা তৃতীয় গোলের দেখা পায়। বাইলাইন থেকে রবিনহোর ক্রসে ইমন বাবুর লব গোলরক্ষক লিটন ঠেকালেও মিসরীয় ডিফেন্ডার আলাদিন নাসের হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের পোস্টেই জমা করেন। রহমতগঞ্জের একমাত্র বিদেশি এই নাসের, আর তাঁর কারণেই আত্মঘাতী গোল! রহমতগঞ্জ কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীও বিদেশিহীনের কারণ দেখিয়েছেন, ‘কিংস খেলেছে চার বিদেশি নিয়ে, তারাই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের পার্থক্য। যত কথাই বলা হোক, আমাদের জাতীয় দলের ফুটবলারের সঙ্গে অন্যান্য দেশি ফুটবলারদের মানের পার্থক্য খুব বেশি নয়। আমাদের দেশি ফুটবলাররা তাদের মানে খেলেছে, আরো তিন বিদেশি থাকলে হয়তো ম্যাচে লড়াইটা অন্য রকম হতো।’ তারা সাধ্যমতো খেললেও কিংসের রক্ষণে কখনো ভয় ধরানোর মতো কিছু করতে পারেনি। যা করেছেন বসুন্ধরা কিংসের বিদেশিরাই। তাঁদের পায়ে ম্যাচের ভাগ্য তৈরি হয়েছে। ৭১ মিনিটে বদলি হয়ে নামা মাহবুবুর রহমান দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েও রহমতগঞ্জ গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি।

তাই ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচটি বিদেশিতেই উজ্জ্বল হয়ে থাকল। সামনের ম্যাচে সেই ঔজ্জ্বল্য আরো বাড়বে, ফুটবল আরো সুরভিত হবে—এই প্রত্যাশাই করেন কিংসের স্প্যানিশ কোচ।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.