Pre-loader logo

দুই মাসের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসবে এলপিজির দাম : নসরুল হামিদ

দুই মাসের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসবে এলপিজির দাম : নসরুল হামিদ

জ্বালানি সঙ্কট এড়াতে বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী -সালমান এফ রহমান
বিশেষ সংবাদদাতা : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপি গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সংক্রান্ত নীতি চূড়ান্ত হচ্ছে। রেগুলেটরি কমিটির মাধ্যমে এ খাত নিয়ন্ত্রণ হবে। তখন এই তারতম্য থাকবে না। একই সঙ্গে নতুন যাত্রা শুরু করা সংগঠন এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে পাইপের গ্যাস ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। কারণ দেশে খুব অল্প প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আছে। বাংলাদেশ যাতে জ্বালানি সঙ্কটে না পড়ে সেজন্য বিকল্প জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এলপিজি আমদানি এখন অনেক বড় বড় কোম্পানি এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত নীতিমালা ঘোষণা হলে রেগুলেটরি কমিটির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন সালমান এফ রহমান। বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন, চূড়ান্ত নীতিমালার আলোকে বড় বিনিয়োগ আসবে এলপিজি খাতে। এতে কমবে দামও।
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত চতুর্থ ‘এশিয়ান এলপিজি সামিট সম্মেলন-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল রোববার তারা এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে ব্যবহার করা গ্যাসের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা যদি এলপিজি ব্যবহার করি তাহলে ২০ শতাংশ সাশ্রয় হবে। তাই বর্তমান সরকার বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে এলপিজিকে প্রাধান্য দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি দিন দিন বড় হচ্ছে, সেক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। তাই কলকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছাড়া অন্য সব খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো হবে। দেশের ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবতে হবে। এলপিজি উৎপাদনে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১২ থেকে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাসের দাম এখন ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। গভীর সমুদ্রে টার্মিনাল থাকলে দাম ৩০ ভাগ কমানো সম্ভব বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার নিরাপদ করতে বিস্ফোরক অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিন বছরে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের কাছে এলপিজি পৌঁছে দেয়ার সরকারি ঘোষণা আসে দুই ২০১৫। এই হিসাবে দেশে এখন এলপিজির চাহিদা প্রায় পাঁচ লাখ টন। আগামী চার বছরে এ চাহিদা ১০ লাখ টন ছাড়াবে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। ভবিষ্যৎ বাজার বিবেচনায় আসছেন দেশ-বিদেশের নতুন উদ্যোক্তাও।
আন্তর্জাতিক এলপিজি অ্যাসোসিয়েশন, অল ইভেন্ট গ্রুপ-সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সামিট সম্মেলন শেষ হবে আজ সোমবার। এতে দেশি-বিদেশি ৬৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে; যারা মূলত এলপিজি বাজারজাত, সিলিন্ডার ও অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশের উৎপাদক হিসেবে কাজ করছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজিম উদ্দিন  চৌধুরী, বিশ্ব এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডেভিড টালের, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস  চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী  ও ওমেরা  পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের এজিএম তানজিন চৌধুরী।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.