Pre-loader logo

দুই লাল কার্ড, উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে জেতেনি কেউ

দুই লাল কার্ড, উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে জেতেনি কেউ

টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দুই অর্ধে দুই লাল কার্ডের ম্যাচে জিতেনি কেউ। ১-১ গোলে সমতায় ম্যাচ শেষ করে দুই দল। প্রথমার্ধে মোহামেডান গোল করে এগিয়ে গেলে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

লিগে পঞ্চম হওয়া মোহামেডান ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখায়। একের পর এক আক্রমণ করে তুলে নেয় গোল। বল দখলেও এগিয়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ২০ মিনিট একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে গোল আদায় করে ম্যাচে ফিরে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। দুই অর্ধে দুই দলই পরিণত হয় দশ জনের দলে। প্রথমার্ধে শেখ রাসেলের সাদ উদ্দিন এবং দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডানের  মাসুদ রানা লাল কার্ড দেখেন।

খেলার শুরুতেই দাপট দেখায় মোহামেডান। ৪ মিনিটে ডিফেন্ডার আবিদ হোসেনের ডিফেন্স ছেড়া পাস বক্সের ভেতর পেয়ে যান সাদা-কালো অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতে। মালিয়ান ফরোয়ার্ডের গোলমুখে নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কিরগিজ ডিফেন্ডার আইজার আকমাতভ। নবম মিনিটে সুযোগ এসেছিল শেখ রাসেলের সামনেও। মান্নাফ রাব্বির বাড়ানো পাসে অরক্ষিত অবস্থায় ছিলেন থিয়াগো আমারাল সোজা বল তুলে দেন মোহামেডান গোলরক্ষকের হাতে।

শেখ রাসেলের ডি-বক্সে চাপ ধরে রেখে ২৩ মিনিটেই গোল আদায় করে নেয় মোহামেডান। বাম-প্রান্ত থেকে আবিদ হোসেনের ক্রস থেকে সুলেমান দিয়াবাতের হেডে বল ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করে শেখ রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা, বল চলে যায় বক্সের ভেতর  আশরাফুল হক আসিফের কাছে, তিজি হেড করে সামনে বাড়িয়ে দিলে সেখান থেকে আবারও গোল মুখে হেড নেন সুলেমান দিয়াবাতে। বল জালে ঢোকার মুখে হাত দিয়ে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন সাদ উদ্দিন কিন্তু কাজ হয়নি। এগিয়ে যায় মোহামেডান আর হাত দিয়ে বল ধরায় লাল কার্ড দেখেন সাদউদ্দিন।

৩৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। মাসুদ রানার উড়িয়ে দেওয়া বলে জাফর ইকবালের মাথা ছুঁয়ে অস্ট্রেলিয়ান অ্যারন জন রেয়ারডনের হেড কোনো রকমে প্রতিহত করেন শেখ রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। চার মিনিট বাদে দুই ব্রাজিলিয়ান মিলেও শেখ রাসেলকে সমতায় ফেরাতে ব্যর্থ হন। মোহামেডান গোলরক্ষক সুজনকে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ ব্রাজিলিয়ান থিয়াগো। ফিরতি বলে উন্মুক্ত জাল  পেয়েছিলেন এইলতন ম্যাচাদো, তিনিও পারেননি লক্ষ্যভেদ করতে।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ পালটা আক্রমণে চলে ম্যাচ। ৬৬ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয় মোহামেডানও। মধ্য মাঠে হাওয়ায় ভাসানো বল দখল করতে গিয়ে রহমত মিয়ার কপালে আঘাত করেন ডিফেন্ডার মাসুদ রানা। সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি সাইমন হাসান। মোহামেডানের দশজনে পরিণত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ২০ মিনিটে আধিপত্য বিস্তার করে শেখ রাসেল।

৭১ মিনিটে ভাল আক্রমণে উঠে সাইফুল বারি টিটুর শিষ্যরা। বাম দিক থেকে রুতি তাবারেজের কাট ব্যাক বক্সের ভেতর তবেকে জোরাল নিচু শট নেন এইলতন ম্যাচাডো কিন্তু কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সুজন।

৮১ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন শেখ রাসেলের রুতি তাবারেজ। আইজার আকমাতভের থ্রু পাস ধরে বক্সের ভেতর ফাকায় বল পান পর্তুগিজ, কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল শট সুজনের গ্লাভসে বন্দি হয়। তবে ৮৪ মিনিটে আর ভুল করেনি শেখ রাসেল। ২০১২-১৩ মৌসুমের ট্রেবল জয়ীদের সমতায় ফেরান কিরগিজ ডিফেন্ডার আইজার আকমাতভ। রহমত মিয়া কর্নার থেকে হেডে জালে জড়ান। ম্যাচের বাকি সময়ে আর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি কোনো দল।

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir.
All Rights Reserved.