Pre-loader logo

দেশের ফুটবল বদলে দেওয়ার স্বপ্নে বসুন্ধরা কিংস

দেশের ফুটবল বদলে দেওয়ার স্বপ্নে বসুন্ধরা কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাফ, বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ শেষ। নজর দাও এবার ক্লাব ফুটবলে। আর দেখো আমাদের—পুরো শহর মাতিয়ে বসুন্ধরা কিংস কাল যখন দল বদল করতে এলো, তখন অনুচ্চারে বাজছিল যেন এ আহ্বানটাই। কিংসকে এবার দেখতেই হবে। দেশ-বিদেশের তারকাদের নিয়ে যেন সত্যিকার রাজার সাজেই সেজেছে তারা। অথচ প্রিমিয়ারে একেবারেই নতুন দলটি। শুরুতেই তাদের সব জয় করার হুংকার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো টের পেয়েছে দলবদলের বাজারে নেমেই। কাল ব্যাপক শোডাউনে কিংস ঢাকাবাসীকেও জানান দিল তাদের আবির্ভাবের কথা।
বাস, ট্রাক, মোটরবাইক ও ঘোড়ার গাড়িতে সজ্জিত সেই শোভাযাত্রা কাল যখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে মতিঝিলের বাফুফে ভবনে ঢুকছে, তখন পুরো এলাকা কিংসের রঙে লাল। খেলোয়াড়, সমর্থক সবার পরনে লাল টি-শার্ট, সমর্থকদের হাতে কিংসের লাল পতাকা। প্রায় একই রকম শোডাউন দিয়েছিল তারা নীলফামারী স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে। কিংসের ধরন ও সামর্থ্যের ইঙ্গিত ছিল সেদিনই। মাঠের বাইরে যেমন, মাঠেও তেমন দাপুটে কিংস। মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়ন নিউ রেডিয়্যান্টকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা সেই ম্যাচে। ঢাকার জায়ান্টরা সেদিনও জেনে গিয়েছিল শিরোপার লড়াইয়ে এবার বড় হুমকি এই কিংস। কাল দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা সারতে এসে কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান তো জানালেন শুধু লিগ শিরোপাতেই তাঁদের লক্ষ্য সীমিত নয়, ‘আমরা মূলত দুটি লক্ষ্য নিয়ে ফুটবলে এসেছি। এক. বেশ কয়েক বছর ধরে ফুটবলের যে মান পড়ে গেছে, সেই মান বাড়ানো আমাদের প্রথম লক্ষ্য। দ্বিতীয় লক্ষ্য অবশ্যই খেলাটির জনপ্রিয়তা আবার ফেরানো। আমরা শক্তিশালী দল গড়েছি, বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার নিয়ে এসেছি। এর বড় উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন এই আকর্ষণে হলেও মাঠে আসে। দর্শক মাঠে এলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়বে, আর প্রতিদ্বন্দ্বী বাড়লে আপনাতেই খেলার মান বাড়বে।’
২০১৬ সালে পাইওনিয়ার লিগ দিয়ে বসুন্ধরা কিংসের যাত্রা শুরু। প্রথমবারেই সুযোগ পেয়ে যায় তারা তৃতীয় বিভাগে। কিন্তু দলটি বড় স্বপ্ন নিয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়নশিপ লিগেই খেলার আবেদন করেছিল। সে সময় বাফুফেও যেন ভবিষ্যতের এ ছবিটাই দেখেছিল। কিংসকে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে সুযোগ দেওয়াটা এখন নিজের সেরা সিদ্ধান্ত মানতেই পারেন পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী। সেই দলটিই তো প্রথম মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতে এবার প্রিমিয়ার লিগে আর আবির্ভাবেই কাঁপিয়ে দিচ্ছে তারা প্রতিষ্ঠিত সব ক্লাবকে। সালাম মুর্শেদী কাল তা বললেনও, ‘বসুন্ধরা কিংস শুরু থেকেই যে পেশাদারি কাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে, তা আমাদের অন্য ক্লাবগুলোর জন্য উদাহরণ হতে পারে।’ কিংস দেশের ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি দেশকে যে ব্র্যান্ডিংও করতে চায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। প্রিমিয়ারে নাম লেখানোর শুরু থেকেই তাদের এএফসি কাপ নিয়ে ভাবনা। ইমরুল সেটিও বলেছেন স্পষ্ট করে, ‘ঘরোয়া ফুটবলের সব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি এএফসি কাপেও নিজেদের প্রমাণ করতে চাই আমরা।’ স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনকে সেই লক্ষ্যের কাণ্ডারি বানিয়েছে ক্লাবটি। ব্রুজন নিজে দারুণ আত্মবিশ্বাসী দল নিয়ে, ‘বসুন্ধরার ম্যানেজমেন্ট তাদের উচ্চাশার সঙ্গে আমাদের দেওয়া সহযোগিতায় কোনো ফারাক রাখেনি। কোচিং স্টাফের হয়ে আমি বলতে পারি, আমাদেরও চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না। খেলোয়াড়দেরও শুরুর দিন থেকে দেখছি তারা নিজেদের সেরা প্রমাণে মুখিয়ে। সত্যি বলতে নিজেদের কোনো দুর্বলতাই আমি দেখছি না। আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী নিজেদের সামর্থ্য ও লক্ষ্য পূরণে। প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্যই ঝাঁপাব আমরা।’
বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে খেলা জাতীয় দলের আট ফুটবলারই বসুন্ধরা কিংসে। গত লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম অধিনায়কত্ব করছেন। তাঁর সঙ্গে আরো দুই ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল ও মতিন মিয়া। উইংয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দেশসেরা দুই মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া ও ইমন মাহমুদও কিংসে। সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়েই নেওয়া হয়েছে ইমনকে। আরেক মিডফিল্ডার মাশুক মোহামেডান হয়ে গত মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলেছেন। বিশ্বকাপে খেলা কোস্টারিকান ডেনিয়েল কলিনড্রেস অবশ্য দেখিয়েছেন তিনিও দলের প্রাণ, দ্রুত জায়গা বদলে খেলা তৈরি করছেন, ফাইনাল পাস বাড়াচ্ছেন। সেই বলগুলো গোলে রূপান্তর করতে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াসকে নিয়ে এসেছে তারা। ডিফেন্সে নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ স্প্যানিয়ার্ড হোর্হে গোতর। যিনি গত মৌসুমে ব্রুজনের অধীনেই খেলেছেন নিউ রেডিয়্যান্টে। এশিয়ান কোটায় আরেকজন অস্ট্রেলিয়ানও যোগ হতে যাচ্ছেন দলে। এই দল নিয়ে সব জিতে নেওয়ার হুংকার তো দিতেই পারেন ইমরুল, আরো ইতিবাচক হলো তাঁর দেশের ফুটবল বদলে দেওয়ার ভাবনাটা।
নিবন্ধিত ৩২ খেলোয়াড়
গোলরক্ষক : মিতুল হাসান, আনিসুর রহমান, নূর মুহাম্মদ, রাকিবুল হাসান; ডিফেন্ডার : সাদ্দাম হোসেন, শোয়েব মিয়া, রিদওয়াদ বিন রহমান, নরুল নাইম, রেজাউল করিম, সুশান্ত ত্রিপুরা, হোর্হে গোতর, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, দিদারুল হক, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন; মিডফিল্ডার : কৃষ্ণ মালি, নাঈম উদ্দিন, মাশুক মিয়া, ইমন মাহমুদ, ডেনিয়েল কলিনড্রেস, সোহানুর রহমান, আলমগীর রানা, মোহাম্মদ ইবরাহিম, হেমন্ত ভিনসেন্ট, মার্কোস ভিনিসিয়াস, মোহাম্মদ শামিম, সানোয়ার হোসেন, সালাউদ্দিন শেখ, রাকিবুল ইসলাম; ফরোয়ার্ড : মতিন মিয়া, তৌহিদুল আলম, মাহবুবুর রহমান ও বিশাল দাস।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.