Pre-loader logo

ধোঁয়া বেরোতেই অ্যালার্ম, দ্রুত শেষ হয় উদ্ধার-নির্বাপণকাজ

ধোঁয়া বেরোতেই অ্যালার্ম, দ্রুত শেষ হয় উদ্ধার-নির্বাপণকাজ

রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের লেভেল ৯ থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়ার সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই বেজে ওঠে ফায়ার অ্যালার্ম। শুরু হয় আতঙ্কিত মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বসুন্ধরা সিটির নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে হাজির হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার সময় এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। বসুন্ধরা সিটি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অগ্নি-দুর্ঘটনা প্রতিরোধের এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ার পুরো সময়ে ঘটনাস্থলের চারপাশ ঘুরে দেখা যায় কৌতূহলী ও উৎসুক মানুষের ভিড়। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর, রমনা ও মোহাম্মদপুর স্টেশনের তিনটি ইউনিট এবং বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সেফটি বিভাগ, কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই মহড়ায় অংশ নেন। মহড়া শেষে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিটি মার্কেটে এ ধরনের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকলে এবং নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বসুন্ধরার এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই অনুকরণীয় এবং প্রশংসনীয়। মহড়ায় দেখা গেছে, হঠাৎ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর জনপ্রিয় এ শপিং মল। ধোঁয়ায় আটকা পড়া আতঙ্কিত মানুষের চিৎকারে সৃষ্টি হয় এক ভীতিকর পরিস্থিতি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মার্কেটের দশম তলা থেকে মই দিয়ে নামিয়ে আনছিলেন আটকে পড়া মানুষদের। একটা সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, আগে থেকেই নিচে প্রস্তুত রাখা মেডিক্যাল টিম উদ্ধার হওয়া আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠিয়ে দেয় হাসপাতালে। মহড়ায় বসুন্ধরার নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুজন নিহত এবং ১২ জনকে আহত দেখানো হয়। এর মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়, মার্কেটে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল থাকলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব। প্রতি মঙ্গলবার বসুন্ধরা সিটি বন্ধ থাকে। তাই গতকাল বন্ধের দিনে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য উৎসুক অনেক পথচারী হঠাৎ বিষয়টি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে ভিড় জমায়। তাদের উদ্দেশে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘অগ্নিনির্বাপণ মহড়া চলছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।’ ঘোষণার পর উপস্থিত জনতার উদ্বেগ কেটে যায়। উপস্থিত কয়েকজনকে বলতে শোনা গেল, ‘বসুন্ধরার মতো এমন উদ্যোগ যদি দেশের প্রতিটি মার্কেটে নেওয়া হয়, তা হলে আগুনে প্রাণহানির ঘটনা অনেক কমে যাবে।’ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা মহড়া শেষে সচেতনতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। মহড়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সিনিয়র অ্যাডভাইজার (টেকনিক্যাল) ও বসুন্ধরা সিটির ইনচার্জ টিআইএম লতিফুল হোসেন। এ সময় তিনি ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণ ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। লতিফুল হোসেন বলেন, বসুন্ধরা সিটি রাজধানীর নিরাপদ শপিং মল। এর প্রতিটি তলায় অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এখানকার ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সচেতনার লক্ষ্যে নিয়মিতই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বসুন্ধরার নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দলও সচেতন এবং সক্রিয় থাকে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রজেক্ট) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু প্রতিটি মার্কেটে এ ধরনের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকলে এবং নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বসুন্ধরার এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই অনুকরণীয় এবং প্রশংসনীয়। মহড়ার সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (বিসিডিএল) সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক (হিসাব) শেখ আবদুল আলীম, জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) ক্যাপ্টেন (অব.) এস এম মাসুদ পারভেজ দিপু, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন, বসুন্ধরা সিটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir.
All Rights Reserved.