Pre-loader logo

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ বসুন্ধরা গ্রুপের

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ বসুন্ধরা গ্রুপের

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (মিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এনআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেটেডের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যবসায়ীগোষ্ঠী। সরকার অনুমোদন দিলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা হবে ২০ মেগাওয়াট। পরে আরো বেশি ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ ছাড়াও বসুন্ধরার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কম্পানির সঙ্গে স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ কম্পিউটার ও বেশ কয়েক ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস তৈরির জন্য আরো তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর বারিধারার ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা ও চুক্তি স্বাক্ষর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এনআইসির প্রেসিডেন্ট এমিলি রবার্ট ড্রুইলা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে বসুন্ধরা গ্রুপ যৌথ উদ্যোগে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সরকারের অনুমোদনের পরপরই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।’ প্রাথমিকভাবে ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র দিয়ে উৎপাদন শুরু হলেও দেশের চাহিদা মেটাতে বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এনআইসির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তিই দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, প্রকল্পগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ, নেটবুক, টাচপ্যাড ও ই-রিডার রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। এনআইসির প্রেসিডেন্ট এমিলি রবার্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের সাথে এই চুক্তি নতুন দিগন্তের সূচনা করল। এটা শুধু ব্যবসা নয়, এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ পেলে আমরা বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগে আগ্রহী।’ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিবেচনা করে জানিয়ে অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরামর্শক জন এফ ডানিলোইজ বলেন, ‘এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে প্রায় ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। তৈরি পোশাক খাতের মতো অন্যান্য খাতের প্রসার আমাদের কাম্য। এ লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার অনেক ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উন্নত প্রযুক্তির কম্পিউটার তৈরি এবং রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে।’ ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন বলেন, দেশে তৈরি কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস পশ্চিমের দেশগুলোতে রপ্তানি হবে_এটা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এ উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগে সহায়তা করার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ও দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা জনাব গোলাম মেহরাজ। অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের সম্পাদক আবেদ খান, ডেইলি সানের সম্পাদক ড. সৈয়দ আনো
য়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক শাহজাহান সরদার এবং বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুব মোর্শেদ হাসান, মিডিয়া ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট পরিচালক কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুল ওয়াহেদ, মিডিয়া উপদেষ্টা আবু তৈয়ব, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.