Pre-loader logo

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেলে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি: সায়েম সোবহান আনভীর

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেলে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি: সায়েম সোবহান আনভীর
* এ শিল্প প্রতিষ্ঠা পেলে কর্মসংস্থান হবে দুই কোটি মানুষের
* চোরাচালান বন্ধ হয়ে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জুয়েলারি বিদেশে রপ্তানি হবে
* জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে ব্যাংকিং খাতকেও
স্বর্ণ চোরাচালান রুখতে দেশে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এটি সম্ভব হলে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জুয়েলারি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
দেশে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কারিগর রয়েছেন। বর্তমানে ২৫ হাজার স্বর্ণের দোকান এবং এই খাতে যুক্ত রয়েছেন ৪৪ লাখ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা পেলে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত দুই কোটি মানুষ এই খাতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি ও দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেলে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি: সায়েম সোবহান আনভীর
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেলে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি: সায়েম সোবহান আনভীর
সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে মনে করেন বাজুস সভাপতি। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ বাংলাদেশ আজ তরতর করে উন্নত দেশের কাতারে উঠে যাচ্ছে। অবহেলিত এই স্বর্ণশিল্পের গতি ফেরাতে আমাদের আইকনিক প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা খুবই জরুরি।
স্বর্ণ পরিশোধন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাজুস সভাপতি বলেন, শুধু আমদানি নয়, এখন সময় হয়েছে সোনা রপ্তানি করার। এজন্য জুয়েলারি কারখানা করতে হবে। আমাদের অনেক শ্রমিক রয়েছেন, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুয়েলারি শ্রমিক হিসেবে চমৎকার কাজ করে যাচ্ছেন। এখন দেশে যদি এ ধরনের কারখানা হয়, তাহলে তারা দেশের কারখানায় কাজ করবেন এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বর্ণ চোরাচালান থামানো যায়নি। তথ্য বলছে, সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, বর্তমানে দেশে ৯০ ভাগ স্বর্ণ আসছে চোরাইপথে। এতে সরকার প্রচুর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু দেশে স্বর্ণ পরিশোধন কারখানা গড়ে উঠলে এই শিল্প থেকে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে কারিগর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
বাজুস সভাপতি বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে এ খাতের ব্যবসায়ীরা কিছুটা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সঠিক পথে ব্যবসা করতে চাওয়া স্বর্ণব্যবসায়ীরা কোনঠাসা অবস্থায় আছেন। শুধু তাই নয়, চোরাচালান থামানো, সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি থেকে বাঁচানো এবং দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশেই জুয়েলারি ইন্ড্রাস্ট্রি তৈরি করতে হবে। এটা তৈরি হলে চোরাকারবারি বন্ধ হবে, দেশের টাকা পাচার বন্ধ হবে। বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের পাশপাশি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জুয়েলারি বিদেশে রপ্তানী হবে। আর এই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করতে হলে ব্যংকিং খাতের সহায়তা ছাড়া এটা করা খুবই কঠিন কাজ। স্বর্ণশিল্প বিকাশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা খুবই দরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে, যা দিয়ে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব।
কাঁচামাল পরিশোধন করে স্বর্ণ উৎপাদনে যুগে প্রবেশ করা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই যুগান্তকারী অর্জন। ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি শতভাগ রফতানিমুখী স্বর্ণ ও গহনা শিল্পের স্বনির্ভরতা দেখাতে পারবে—এ প্রশ্নের জবাবে সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত প্রতিবছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জুয়েলারি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। যা সেদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। বাংলাদেশেও সেটি সম্ভব। কারণ বাংলাদেশে যে ধরনের দক্ষ কারিগর আছে, তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিরল। বাজুস সভাপতি এ সময় বলেন, আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, অনেক দক্ষ কারিগরের সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলাদেশে কাজের ভালো সুযোগ পরিবেশ না পেয়ে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে অনেকে সেখানে কাজ করে বিশ্বমানের অলংকার তৈরি করছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মের অনেক কারিগর বাংলাদেশ থেকে গিয়ে কাজ করছেন ভারত ও দুবাইয়ে। যদি দেশে এই শিল্প তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশীয় কারিগরদের সুদিন ফিরবে। পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করা স্বর্ণশিল্পীরা দেশে এসে কাজ করতে পারবেন। স্বর্ণশিল্পের দক্ষ কারিগররা এখন কাজ না পেয়ে অনেকেই পূর্বসূরীদের এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পের সবচেয়ে বড় অপবাদ হলো পাইকারি পর্যায়ে স্বর্ণ কেনাবেচায় বৈধ কাগজপত্র বিনিময় হয় না। অর্থাৎ কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়াটি অবৈধ। স্বর্ণ পরিশোধন ও উৎপাদনের যাওয়ার মাধ্যমে কি এই শিল্পের অপবাদ ঘুচবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, অবশ্যই আমরা এই ধরনের অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সে কারণেই দেশে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রির কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir.
All Rights Reserved.