Pre-loader logo

বসুন্ধরায় জমজমাট আয়োজন

বসুন্ধরায় জমজমাট আয়োজন

পূর্বাচল লিঙ্ক রোডের ৩০০ ফুট রাস্তা দিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশপথ জি-ব্লকের ১ নম্বর রোডে বিশাল আয়োজনে এবার উদ্যাপন হচ্ছে দুর্গাপূজা। বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে এ বৃহৎ ও মনোমুগ্ধকর আয়োজন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জি-ব্লকে প্রবেশ করতেই ত্রিশূল আর ‘ওম’ চিহ্নে তৈরি করা সোনারঙা বিশাল গেট দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাবে। এ ফটক পেরিয়ে পূজামণ্ডপে যেতেই পথের দুই পাশে বসানো হয়েছে ফুলেল নকশার স্থাপনা। পূজামণ্ডপের ভিতরে প্রবেশ করতেই অপূর্ব মঞ্চ আর আশপাশে কৃত্রিম লেকের দৃশ্য এ মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীর চোখ জুড়াবে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজনের আজ দ্বিতীয় দিন তথা মহাসপ্তমী। মহাসপ্তমীতে আজ ত্রিনয়নী দেবীকে চক্ষুদান ও মণ্ডপে অধিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে শুরু পূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকাল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এর পর ৪টায় তিনি টিকাটুলীর রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনে যাবেন।
আগামী বুধবার মহাঅষ্টমী ও কুমারীপূজা। বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে নবমী ও বিজয়া দশমী। আর আগামী শুক্রবার শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী এক বছরের জন্য ফিরে যাবেন তার শ্বশুরালয় কৈলাসে।
গতকাল বিকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মণ্ডপে প্রবেশের মুখেই কপার রঙে তৈরি বিশাল এক মঞ্চে দেবী দুর্গার মুখের আদল। ভিতরে গিয়ে দেখা যায় মঞ্চে বর্ণিল সাজসজ্জায় দুর্গা অসুরকে বধ করছেন। তার পাশেই আছেন অন্য দেব-দেবী। ফুলেল মঞ্চের এক পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য আরেকটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। আর মঞ্চের আশপাশে আগত দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পূজামণ্ডপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মণ্ডপের পাশেই তৈরি কৃত্রিম লেক। স্থানটি কৃত্রিম হাঁস, মৎস্যকন্যা, ব্যাঙের ছাতা, পাহাড়ি ঝরনা ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে। তার পাশেই রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। রাতে মণ্ডপের সুন্দর আলোকসজ্জা এ সুন্দর আয়োজনের শোভা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকাতেই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জানা যায়, চারুকলা থেকে পাস করা শিল্পী সঞ্জীব দাস এ মণ্ডপকে এমন দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজিয়েছেন। আর প্রতিমা গড়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রতিমাশিল্পী সুমন পাল। এ মণ্ডপের পুরোহিত হচ্ছেন মানিকগঞ্জের গৌতম চক্রবর্তী। মণ্ডপটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। জানতে চাইলে বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ উৎপল চন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চার বছর ধরে আমরা পূজার আয়োজন করছি। এ আয়োজনে বসুন্ধরার স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও অন্য এলাকার দর্শনার্থীরা আসবেন। প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর এবার মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকির জন্য এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিনই সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবার মণ্ডপে একসঙ্গে হাজারের বেশি দর্শনার্থী পূজা দেখতে পারবেন। এ ছাড়া আগত দর্শকদের জন্য সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ এদিকে গতকাল ষষ্ঠীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত রণজিৎ চক্রবর্তী জানান, ‘সপ্তমীর দিন আজ সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান শেষে সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর নবপত্রিকায় প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। চলবে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।’
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি সূত্র জানায়, আজ মহাসপ্তমীর দিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। পূজা চলাকালে অঞ্জলি প্রদান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় ধর্মীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আরতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে পূজামণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, আরতি প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বেশ কিছু মন্দির ঘুরে দেখা যায়, পূজা উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির সদস্যরা মণ্ডপগুলোর আশপাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.