Pre-loader logo

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের দাম আরেক দফা কমল

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের দাম আরেক দফা কমল

সারা দেশে সর্বাধিক বিক্রীত বসুন্ধরা এলপি গ্যাস এখন গ্রামগঞ্জের বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বর্ধিত হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসকে জনপ্রিয় করে তোলার প্রতিশ্রুতি থেকে ভোক্তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি পণ্যটির দাম আরো এক দফা কমিয়েছে বসুন্ধরা। এর আগে সর্বশেষ দাম কমানো হয় গত ডিসেম্বরে।
গতকাল রবিবার থেকে বসুন্ধরার ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ২০ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৫০ টাকা এবং ৪৫ কেজির দাম ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে বলে জানান বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং এম এম জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে বসুন্ধরা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট শেয়ার ৩০ শতাংশের বেশি। সাম্প্রতিককালে বড় বড় কম্পানি এলপি গ্যাসের বাজারে প্রবেশ করেছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে বসুন্ধরা স্বীয় অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে এ জন্য যে প্রতিষ্ঠানটি ন্যায্য মূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করছে।
এম এম জসীম উদ্দীন বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বর্তমান নীতি হচ্ছে গৃহস্থালি কাজে এর বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসুন্ধরা গ্রুপ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।’
এক বছর ধরে অন্যান্য কম্পানির তুলনায় বসুন্ধরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমে এলপি গ্যাস বিক্রি করছে জানিয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের হেড অব মার্কেটিং বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বল্প মুনাফা করে আরো কিছুটা দাম কমানো সম্ভব। সে কারণে আজ (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আরেক দফা দাম কমানো হলো। এর আগে দাম কমানো হয়েছিল গত বছরের ৫ ডিসেম্বর।’
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টন এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বরাবরই সরকারের কাছে একটি দাবি করে আসছে—সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া। গ্যাস সিলিন্ডার আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট উঠিয়ে দেওয়া হলেও সিলিন্ডারের কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানো হয়নি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে গ্রামেগঞ্জে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে পারলে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার কমবে এবং বনভূমি রক্ষা পাবে। আর এ কাজ করতেই এলপি গ্যাসের দাম কমিয়ে এক ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা।
এলপি গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি অপারেটরদের সব সময়ই এক ধরনের নৈতিক চাপ দেওয়া হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও একই কথা বলেছেন। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এলপি গ্যাস অন্যান্য তরল জ্বালানির মতো নয়। এটা সম্পূর্ণরূপে ভোগ্যপণ্য। শিল্পপণ্য হিসেবে এর ব্যবহার ১০ শতাংশও নয়। মূলত কাঁচামালের দরের ওপরই ভোক্তামূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। কেরোসিন বা ডিজেলের মতো এর দাম বেঁধে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ খাতের উদ্যোক্তারা চেষ্টা করছেন সরকারের নীতিকে সমর্থন করে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.