Pre-loader logo

বসুন্ধরা কিংস প্রথম, না শেখ রাসেলের দ্বিতীয়

বসুন্ধরা কিংস প্রথম, না শেখ রাসেলের দ্বিতীয়

বসুন্ধরা কিংস ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ফাইনালে ওঠার ম্যাচ আজ। একে দুই দলের এপার-ওপারের লড়াইও বলা যেতে পারে। কেননা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুই ক্লাব ভবনের অবস্থান রাস্তার এপার-ওপার। ওয়ালটন ফেডারেশন কাপে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। আজ বিকাল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। যোগ্যরাই সেমিতে মুখোমুখি হয়। সুতরাং এখানে কাউকে ফেবারিট বলাটা ঠিক হবে না। তারপরও শক্তির বিচারে বসুন্ধরা কিংসকে এগিয়ে রাখা যায়। যদিও ঘরোয়া ফুটবলে আগের সেই জৌলুস নেই। তারপরও বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সেরা বা বিগ বাজেটে দল গড়েছে বসুন্ধরা কিংস। একটা নতুন ক্লাব এত তাড়াতাড়ি পরিচিত লাভ করতে পারে তার বড় প্রমাণ কিংসই। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা জিতে এবারই পেশাদার লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। ১৯৭২ সালে নতুন দল হয়েও ঢাকা আবাহনী শক্তিশালী দল গড়েছিল।
কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের মতো আলোড়ন তুলতে পারেনি। ফুটবল উন্নয়নে নানা কর্মসূচি দিয়ে ক্লাবটি অভিষেকের আগেই আলোচনা এসে পড়ে। তারপর শুরুতে বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিনড্রেসকে দলে নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দেয়। শুধু কলিনড্রেসই নন, ব্রাজিলের মার্কোস, স্পেনের জর্জ গোটন, কিরগিজস্তানের বখতিয়ারকে নিয়ে অনেক দিন ঘরোয়া ফুটবলে মান সম্পন্ন বিদেশিদের আগমন ঘটায়। বসুন্ধরা কিংসের লোকাল কালেকশনেও চোখে পড়ার মতো। তবু মৌসুমের প্রথম ট্রফি ফেডারেশন কাপে গ্রুপ ম্যাচে ততটা ঝলক দেখাতে পারেনি। কলিনড্রেস ঠিকই ম্যাজিক প্রদর্শন করছেন। তিন ম্যাচে ১১ গোল দিয়ে আক্রমণভাগের ভীতটা কতটা শক্ত তা প্রমাণ দিয়েছে। সেই তুলনায় রক্ষণভাগকে ম্লানই বলা যায়। তিন ম্যাচে চার গোল হজম করেছে। শেখ জামালের সঙ্গে ড্র না হয় মানা যায়। কিন্তু দুর্বল নফেল স্পোর্টিংয়ের কাছে পয়েন্ট হারায় কীভাবে? মোহামেডানের বিপক্ষে জিতলেও দুবার পিছিয়ে ছিল।
শেখ রাসেল গত দুই মৌসুমে কোনো ট্রফিই জিততে পারেনি। এবার তারা মরণ কামড় দেবেই। ফেডারেশন কাপে এখনো তারা অপরাজিত। সি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। মুক্তিযোদ্ধাকেও সহজভাবে হারিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী চট্টগ্রাম আবাহনীকে। কোচ সাইফুল বারী টিটুর প্রশিক্ষণে ছন্দময় খেলা খেলছে রাসেল। মাঠে শেখ রাসেলের দেখা মিলছে শেখ রাসেল রূপেই। গত লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফায়েল ওডোডিন এবারও জ্বলে উঠছেন। এর সঙ্গে যোগ ব্রাজিলের অ্যালেক্স রাফায়েল। দুই রাফায়েল মিলে প্রতিপক্ষেদের আতঙ্কে রাখছেন। রক্ষণভাগও বেশ মজবুত।
ম্যাচে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। দুই দলকে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। বসুন্ধরা কিংস অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। কলিনড্রেসের দ্রুততম হ্যাটট্রিকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টিম বিজেএমসিকে। সেমিতে যা তাদের টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। কিরগিজস্তানের বখতিয়ারকে আজ মাঠে না দেখার সম্ভাবনা বেশি। ফিফা উইন্ডোতে দেশের হয়ে তিনি প্রীতিম্যাচ খেলতে গেছেন। কোচ অস্কার ব্রুজোন অবশ্য এ নিয়ে বিচলিত নন। তার কথা সব পজিশনেই বসুন্ধরা কিংসে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় রয়েছে। কারও অনুপস্থিতি মাঠে প্রভাব ফেলবে না। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে শেখ রাসেল একবার ফাইনাল খেলেই ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন দল হিসেবে আজ ম্যাচ জিতলেই বসুন্ধরা কিংস প্রথমবার ফাইনাল খেলবে। কি হবে ম্যাচে বসুন্ধরা প্রথম না শেখ রাসেল দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলবে।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.