Pre-loader logo

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে ৩০৩২ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড ঋণ চুক্তি

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে ৩০৩২ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড ঋণ চুক্তি

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড লিড অ্যারেঞ্জার ও এজেন্ট হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড মেয়াদি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গতকাল রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় গোল্ড রিফাইনারির সম্ভাবনা তুলে ধরে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বলেন, আমি গ্যারান্টি দিতে পারি এই গোল্ড রিফাইনারি আপনাদের গর্ব  করার মতো প্রজেক্ট হবে। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলামের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আবদুস সালাম আজাদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আলমগীর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপ এবং অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ব প্রথম স্বর্ণ পরিশোধনাগার প্লান্ট। ৫ হাজার ১৫৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজধানীর ঢাকা-পূর্বাচল ৩০০ ফুট হাইওয়ে সংলগ্ন বসুন্ধরা-ভাটারায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড।

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সোনা পরিশোধনাগার এ প্রকল্পে সিন্ডিকেশন ব্যবস্থার আওতায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ফান্ড রাইজকরণে লিড এরেঞ্জার ও এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এ ছাড়া সিন্ডিকেট হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ২০২৩ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শিল্প বিকাশে ব্যাংকের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সেদিন যদি ব্যাংকগুলো এগিয়ে না আসত, তাহলে আজ আমরা এই অবস্থায় আসতে পারতাম না। বসুন্ধরা শুধু টাকার জন্য ব্যবসা করে না। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করি। দেশটাকে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। উদ্যোগ নিতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলোকে শিল্পায়নে এগিয়ে আসতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান বলেন, সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করে দেশে বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমি গ্যারান্টি দিতে পারি এই গোল্ড রিফাইনারি আপনাদের গর্ব করার মতো প্রজেক্ট হবে। এ জন্য সবচেয়ে আগে ধন্যবাদ দিতে হবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে। কারণ, এই করোনাকালে তিনি যদি ব্যাংক থেকে প্রণোদনা না দিতেন তাহলে জিডিপিতে এর প্রভাব পড়ত। যে কারণে অর্থনীতি এখন এত শক্তিশালী অবস্থায়।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নে আপনাদের অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। আপনারা সবাই দোয়া করবেন যাতে এই স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা গর্বিত সংযোজন। আজকে বাংলাদেশের যত উন্নতি হচ্ছে তার পেছনে আছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি ব্যাংকের অবদান। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, এই উদ্যোগের সঙ্গে যোগ হতে পেরে সোনালী ব্যাংক নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছে। এই উদ্যোগ শুধু স্বর্ণ উৎপাদন করেই থেমে থাকবে না। আমরা মনে করি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বসুন্ধরার পাশে থাকবে। অবশ্যই এই প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হবে, এই প্রত্যাশা রাখছি। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আবদুস সালাম আজাদ বলেন, বসুন্ধরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনোভেশন করে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রজেক্ট, এই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে  পেরে আমরাও গর্বিত। বাংলাদেশ গোল্ড এক্সপোর্ট করবে, এটা অনেক গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়েছে, প্রত্যাশা আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এগিয়ে যাবে বসুন্ধরা গ্রুপ।

 

Source : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Copyright © 2022 Sayem Sobhan Anvir.
All Rights Reserved.