Pre-loader logo

বসুন্ধরা মাতালেন শঙ্কর এহসান লয়

বসুন্ধরা মাতালেন শঙ্কর এহসান লয়

জমকালো আলোকসজ্জা আর সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত শ্রোতারা। মুহুর্মুহু করতালিতে প্রিয় শিল্পীদের স্বাগত জানালেন তারা। দর্শক-শ্রোতার হর্ষধ্বনিতে গিটারে বেজে উঠল নতুন সুর। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দিওয়ালি কনসার্ট মাতালেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন, এহসান নুরানি ও লয় মেনদোনসা। তাদের তিনজনকে একসঙ্গে ত্রয়ী বলা হয়। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘দিওয়ালি অর্থাৎ দীপাবলি হলো জ্ঞানের অন্ধকার দূর করে পৃথিবীকে আলোকিত করা। প্রতি বছর ভারতে আমরা দীপাবলি পালন করি। এ বছর বাংলাদেশের ভাই-বোন-বন্ধুদের সঙ্গে এ উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিই। এ আয়োজন সফল করার পেছনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন যিনি সেই মানুষটি বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। কনসার্টের জায়গা থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। একইসঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে চাই বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে আবুল খায়ের লিটুরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘এই সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য কালচারাল সেন্টার করা প্রয়োজন। এই কনভেনশন সিটির পাশেই সেজন্য আমাদের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। যেখানে ৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন। এজন্য সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে।’ আবুল খায়ের লিটু বলেন, ‘সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন মজবুত করতে এবং বিনিময়কে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করি। এটা তারই অংশ।’ বক্তব্য শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং বেঙ্গল গ্রুপ চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটুর হাতে সুভ্যেনির তুলে দেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী মেহেরিনের হাতেও তিনি সুভ্যেনির তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ। প্রায় ছয় হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গান পরিবেশন করেন ভারতের জনপ্রিয় তিন শিল্পী। আইসিসিবির এক্সপোজোনে তখন বইছে হালকা হাওয়া। মেঘের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে চাঁদ। হঠাৎ জ্বলে উঠল মঞ্চের ফ্লাড লাইট। দর্শকদের হর্ষধ্বনিতে স্বাগত জানাল স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন, এহসান নুরানি, লয় মেনদোনসাসহ তাদের পুরো টিমকে। দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শঙ্কর প্রথমেই ধরলেন তরুণদের মনমাতানো গান ‘দিল চাহাতা হে’। পুরো টিমের পারফরমেন্সে আস্তে আস্তে গরম হতে শুরু করে হেমন্তের আর্দ্র বাতাস। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে কনসার্টের উষ্ণতা। গানের ফাঁকে এই তিন শিল্পীর ২৩ বছরের একসঙ্গে গান কম্পোজিশনের কাজে কোনটি পছন্দের গান এটি দর্শকদের জানতে মন চায় কিনা জিজ্ঞেস করেন শঙ্কর। দর্শকরা জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে শঙ্কর গেয়ে ওঠেন ‘কাল হোনা হো’ গানটি। গান শুরু হতেই মোবাইলের আলো জ্বেলে শিল্পীদের অভিবাদন জানান দর্শকরা। গানের তালে নাচের বোলে রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমে ওঠে অনুষ্ঠান। এক সময় সুর নামিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি টানেন শিল্পীরা।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.