Pre-loader logo

রাজত্ব ধরে রাখাই কিংসের লক্ষ্য

রাজত্ব ধরে রাখাই কিংসের লক্ষ্য

একটা ভালো গল্প। দারুণ কিছু অভিনেতা। এক চিমটি কৌতুক। সঙ্গে বিয়োগাত্মক কোনো ঘটনা। বক্স অফিস মাতিয়ে দেওয়া সিনেমার সাধারণ সূত্র নাকি এটিই। গত দুই মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যটাকেও এমন সূত্রে ফেলে দেওয়া যায়—দারুণ সাংগঠনিক দক্ষতা, দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড়, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোল খেলেই দ্রুত পাল্টা জবাব। এই সমীকরণ মিলিয়েই দেশের ফুটবলে নতুন রাজা হয়ে উঠেছে কিংস।

২০১৮-১৯ মৌসুমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে নাম লেখানোর পর থেকেই যেন শিরোপার সঙ্গে সন্ধি করে নিয়েছে কিংস! দুই মৌসুম মিলিয়ে এখন পর্যন্ত একটি লিগ ও তিনটি টুর্নামেন্ট খেলেছে তারা। প্রথম ফেডারেশন কাপে হয়েছে রানার্সআপ। এরপর লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই যে শিরোপার হাত ধরে হাঁটা শুরু, জিতেছে স্বাধীনতা কাপ ও গত মৌসুমের ফেডারেশন কাপ শিরোপা। এবারের মৌসুমেও বসুন্ধরা মাঠে নামবে নিজেদের এই রাজত্ব ধরে রাখতে।

নতুন দল গড়ার ক্ষেত্রেও বসুন্ধরার লড়াই শুধু নিজেদের সঙ্গেই। এবার স্থানীয় ফুটবলারদের দল বদলের সুযোগ ছিল না। বসুন্ধরার চোখ ছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায়। চার বিদেশির দুজন ব্রাজিলিয়ান ও একজন আর্জেন্টিনার। এশিয়ান কোটা পূরণ করা হয়েছে ইরান থেকে খেলোয়াড় এনে।

বসুন্ধরার আক্রমণভাগ এখন লাতিন সৌরভ ছড়ানোর অপেক্ষায়। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জোনাথন ফার্নান্দেজের সঙ্গে স্বদেশি উইঙ্গার রবসন জে আদেভাদো রবিনিও। ২৫ বছর বয়সী রবিনিও প্রথাগত উইঙ্গার হলেও তাঁকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো হবে ফার্নান্দেজের সঙ্গে। দুই ব্রাজিলিয়ানের সামনে আর্জেন্টাইন নাম্বার নাইন রাউল বেসেরা। লাতিন এই ‘ত্রিভুজ প্রেম’ জমে উঠলে প্রতিপক্ষ হতে পারে পুড়ে ছারখার!

এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে সে আভাসই। শেষ দুই প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে ৩-১ ও শেখ জামালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের হয়ে পাঁচ গোলের দুটি করেন বেসেরা ও ফার্নান্দেজ, একটি গোল রবিনিওর। তাঁদের পায়ে শুধু গোলের প্রতিশ্রুতি নয়, লাতিন ফুটবলে সৌন্দর্যটাও দেখেছেন বসুন্ধরার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম, ‘আমাদের এবারের বিদেশি খেলোয়াড়েরা আগের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে দুই ব্রাজিলিয়ান তো অসাধারণ! ওরা গোল করবে, করাবে। ওদের খেলা দেখেও দর্শকেরা মুগ্ধ হবেন।’

চোখটা এবার স্থানীয় ফুটবলারদের ওপর রাখা যাক। বসুন্ধরায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়ই আছেন ১০ জন। কাতারের বিপক্ষে ৫-০ গোলে হারার ম্যাচেও নায়ক হয়ে ওঠা গোলরক্ষক আনিসুর রহমানকেই দেখা যাবে পোস্টের নিচে। রক্ষণভাগে তপু বর্মণ, ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুশান্ত ত্রিপুরা। মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ ও রবিউল ইসলাম। ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুর রহমান ও তৌহিদুল আলম। জাতীয় দলে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকা ডিফেন্ডার নুরুল নাঈম ফয়সাল, মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া ও ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া তো আছেনই। চোট কাটিয়ে ফেরা মতিন তো বসুন্ধরার আক্রমণভাগেরই প্রাণ!

দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ বসুন্ধরার দায়িত্বে পুরোনো স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনই। কিংসের টানা তিন শিরোপা জয়েই মিশে আছে অস্কারের নাম। নিজের দল নিয়ে অধিনায়ক তপু বর্মণের কথা,‌ ‘বিদেশি ভালো হওয়ায় এবারের দলটি অনেক বেশি পরিণত। প্রতিটি পজিশনেই ভালো মানের দুজন করে খেলোয়াড় আছেন। আমাদের কোচও পুরোনো। অনেক আগে থেকে অনুশীলন শুরু করায় আমাদের বোঝাপড়া অনেক ভালো। এর চেয়ে ভালো দল হতে পারে না।’

একটা মধুর সমস্যাও আছে দলে। একাদশ গঠন করতে কোচ অস্কারের যে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা! দলের ভেতর থেকে যে রকম খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকেই হয়তো বেঞ্চে বসে থাকতে হবে। অস্কারের প্রথম পছন্দ ৪-৩-৩ ছক। সম্ভাব্য একাদশে দুই সেন্টারব্যাক ইয়াসিন খান ও ইরানি খালেদ সাফেই, রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ও লেফটব্যাকে রিমন হোসেন। মাঝমাঠে মাসুক, ফার্নান্দেজ ও রবিনিও। আক্রমণভাগের ডান প্রান্তে মতিন, বাঁ প্রান্তে ইব্রাহিম ও ‘নাম্বার নাইন’ বেসেরা।

দোহায় কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় ফেডারেশন কাপের শুরু থেকে খেলা হচ্ছে না অধিনায়ক ও সেন্টারব্যাক তপুর। তবে দলে যাঁরাই খেলুন, বসুন্ধরা চ্যাম্পিয়ন না হলে সেটি দুর্ভাগ্য হবে বলেই মনে করেন তিনি, ‘এই দল নিয়ে লিগসহ প্রতিটি টুর্নামেন্টেই আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। আমরা যদি দ্বিতীয়ও হই, সেটি হবে দুর্ভাগ্য।’

বাতিল হওয়া গত লিগে দুর্ভাগ্যই পেয়ে বসেছিল বসুন্ধরাকে। প্রথম ৬ ম্যাচ খেলেই চট্টগ্রাম আবাহনী ও মোহামেডানের বিপক্ষে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। নতুন মৌসুমে সে দুই পরাজয়ই দলটির জন্য হতে পারে আগাম সতর্ক।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.