Pre-loader logo

রাসেলের ১৫ মিনিটের ম্যাজিক চট্টগ্রাম আবাহনীর স্বপ্নভঙ্গ!

রাসেলের ১৫ মিনিটের ম্যাজিক চট্টগ্রাম আবাহনীর স্বপ্নভঙ্গ!

লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শিরোপার ফয়সালা যেন অনেকখানি হয়ে গেছে। সেটা করে দিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব, তারা ১-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপার দৌড় থেকে একরকম ছিটকে দিয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছে শীর্ষে থাকা ঢাকা আবাহনীর। চট্টগ্রাম আবাহনীর সহকারী কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও মনে করছেন তাদের শিরোপা কঠিন হয়ে গেছে, ‘এই ম্যাচ হারায় শীর্ষ দলের সঙ্গে ব্যবধান হয়ে যাবে ৭ পয়েন্টের (যদি মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জেতে ঢাকা আবাহনী)। এখন ওরা (ঢাকা আবাহনী) আরো সতর্ক হয়ে খেলবে, নির্ভার হয়ে খেলবে। আমাদের জন্য শিরোপা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।’ দিনের অন্য ম্যাচে রুম্মনের জোড়া গোলে শেখ রাসেল ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফেনী সকারকে। জালাল উদ্দিনের বিতর্কিত রেফারিংয়ের পরও পিছিয়ে পড়া রাসেল ১৫ মিনিটের ম্যাজিকে দারুণ জয় আদায় করে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর আগে শিরোপার দৌড়ে ছিল তিন দল। ঢাকা আবাহনী (৩২), চট্টগ্রাম আবাহনী (২৮) ও রহমতগঞ্জ (২৫)। নিজেদের মাঠে চট্টগ্রাম আবাহনী হেরে পিছিয়ে পড়ায় পেছনে পড়ে গেছে ঢাকা আবাহনীর শিরোপা চ্যালেঞ্জার। তারা আজ মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে জিতলেই ৭ পয়েন্টে এগিয়ে থাকবে। ঢাকা আবাহনীকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তাটা কাল করে দিয়েছে আসলে শেখ জামাল ধানমণ্ডি। গাম্বিয়ান ল্যান্ডিংয়ের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকেই হয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর সর্বনাশ।
নিজেদের মাঠে হলেও চট্টগ্রাম আবাহনী সেভাবে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে পারেনি। ৩৬ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত শেখ জামাল। ল্যান্ডিংয়ের ফ্রি-কিকটি ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেন আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। বিরতির পর কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। তার মাসুল দিতে হয়েছে ৬২ মিনিটে ল্যান্ডিং দারবোয়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলে। ডি-বক্সের বাইরে বাঁদিক থেকে ফ্রি-কিকের কোণটা দুরূহ থেকে হলেও তাঁর ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো কিক গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে আশ্রয় নিলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। পরের মিনিটে ম্যাচে ফিরতে পারত স্বাগতিকরা। কিন্তু জাহিদ হোসেনের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে দলের হতাশা আরো বাড়ে। ৮৩ মিনিটে আরেকটি গোল খেতে পারত। গায়ে গায়ে লেগে থাকা এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে নাইজেরিয়ান এমেকা ডার্লিংটনের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ফিরিয়ে দিয়েছে পোস্ট। ফিরতি বলেও সুযোগ ছিল কিন্তু আশরাফুল ইসলাম ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেন। তবে যা ক্ষতি হওয়ার তো হয়ে গেছে ওই এক গোলেই। আগের ম্যাচে শেখ রাসেলের সঙ্গে ড্রয়ের পর কাল শেখ জামালের কাছে হারে চট্টগ্রাম আবাহনী শিরোপার দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে গেছে। শেখ জামালের সপ্তম জয়ে দারুণ খুশি জামাল কোচ জসিম উদ্দিন জোসি, ‘সব কৃতিত্ব আমার খেলোয়াড়দের। আমরা ১ পয়েন্ট হাতে নিয়ে খেলতে নেমেছি। আমার নির্দেশ ছিল তোমরা আরো ২ পয়েন্ট নিয়ে আসতে পার কিনা দেখ।’ এই ম্যাচের পুরো তিন পয়েন্টর সুবাদে তারা ২৫ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে তৃতীয় স্থানে।
দিনের পরের ম্যাচে পিছিয়ে পড়া শেখ রাসেল শেষ মুহূর্তে ফেনী সকারকে কঠিন চাপে ফেলে ৩-১ গোলে জিতেছে। প্রথমার্ধে খেলেছেন রেফারি জালাল উদ্দিন, যাচ্ছেতাই বাঁশি বাজিয়েছেন। ফেনীর সুশান্ত শুরু থেকে ফাউল করে খেললেও তিনি এড়িয়ে গেছেন। ১৩ মিনিটে সাখাওয়াত হোসেনকে ফাউল করায় এই রেফারি বিস্ময়করভাবে সুশান্তের পাশাপাশি সাখাওয়াতকেও লাল কার্ড দেখিয়ে দেন। ৬৪ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল খেয়ে বসে শেখ রাসেল। ওপর থেকে একটি দুর্বল শট ডি-বক্সে হেলালের পায়ে পড়ে, তারপর তার শট বিপ্লবকে ফাঁকি দিয়ে জালে পৌঁছে গেলে এগিয়ে যায় ফেনী সকার। সুবাদে প্রথম লেগে ২-০ গোলে এই ম্যাচ জেতার স্মৃতি ভেসে ওঠে তাদের চোখে। আবারও হারাবে রাসেলকে! কিন্তু এই ম্যাচের স্ক্রিপ্ট যে অন্যভাবে লেখা হয়েছিল। কারণ প্রথম লেগের রাসেল চেহারা পাল্টে এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক দল। গত ম্যাচে তারা ড্র করেছে শিরোপাপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে। কাল ১৫ মিনিটে তিন গোলের ম্যাজিক দেখিয়ে তারা স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে ফেনী সকারের। ৭০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে মোনায়েম খানের ফ্রি-কিকে রুম্মনের চমত্কার হেডে গোলরক্ষকের কিছু করার ছিল না। ম্যাচে ফেরা রাসেলের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে যায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। ৮৪ মিনিটে জামাল ভুঁইয়ার চমত্কার কর্নার কিকে কাছের পোস্টে মাথা ছুঁইয়ে দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন ক্যামেরুনের ইকাঙ্গা। এগিয়ে গিয়েও তাদের গোল ক্ষুধা কমেনি। দুই মিনিট বাদেই আরেকটি দুর্দান্ত মুভের জন্ম জামালের পায়ে। বাঁ-দিক থেকে পাঠানো স্কয়ার পাসটি ইকাঙ্গার পা ঘুরে রুম্মনের পায়ে পড়তেই নিজের জোড়া গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় শেখ রাসেলের জয়। ১৫ মিনিটের ম্যাজিকেই শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র চতুর্থ জয় নিয়ে উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে। ফেনী সকার ১০ পয়েন্ট নিয়ে একাদশ স্থানে থেকে রেলিগেশনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে শামিল।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.