Pre-loader logo

শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে বসুন্ধরা সিটি

শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে বসুন্ধরা সিটি

অগ্নিকাণ্ডের পর রাজধানীর পান্থপথে দেশের প্রথম আধুনিক বহুতল বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করার কাজে হাত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার রাতে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর গতকাল সোমবারও ডাম্পিংয়ের কাজ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শপিং মলের ভেতরে পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শপিং মলের লেভেল সিক্সের ‘সি’ ব্লকের কয়েকটি দোকানের জুতা ও ব্যাগের চামড়া পুড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে কুণ্ডলীর মতো সুপ্ত আগুন দেখা যায়। এসব জায়গা থেকেই মূলত ধোঁয়া বের হয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। বন্ধ থাকা দোকানগুলো খুলে প্রতিটি স্থানে তল্লাশি করে সুপ্ত আগুন ডাম্পিং করতে সময়ে লাগছে। গতকাল ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই মার্কেটের অন্যান্য অংশ পরিষ্কার ও স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই বসুন্ধরা সিটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
গত রবিবার সকাল ১১টার পর দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শপিং মল বসুন্ধরা সিটির লেভেল সিক্সের ‘সি’ ব্লকের একটি জুতার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। বসুন্ধরার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নামে। এ সময় শপিং মলের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এরপর শুরু হয় ডাম্পিংয়ের কাজ।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান গতকাল বলেন, ভেতরে কোথাও কোথাও সুপ্ত আগুন বা কয়লার কুণ্ডলী আছে। জুতার চামড়ার কারণে এমনটি হয়েছে। প্রতিটি দোকানের শাটার ভেঙে সুপ্ত আগুন নেভানো হচ্ছে। ‘সি’ ব্লকের সবখানে তল্লাশি করা হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং এম এম জসিম উদ্দিন মার্কেটের সার্বিক অবস্থা নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ফায়ার ফাইটিং কার্যক্রম প্রায় শেষ। ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন। আমাদের কর্মীরাও মেইনটেন্যান্সের কাজ শুরু করেছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক তালিকা পেয়েছি। এতে দেখা গেছে, লেভেল সিক্সের ‘সি’ ব্লকের ১১টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। আরো ২০-২২টি প্রতিষ্ঠানের সিলিংসহ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘সি’ ব্লকে সব মিলিয়ে ৬০-৬৫টি দোকান আছে। এখন বন্ধ দোকানগুলোর শাটার খুলে ভেতরের দাহ্য পদার্থের কয়লা ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আজকের (গতকাল) মধ্যে ফায়ার সার্ভিস তাদের ডাম্পিং কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। এরপর আমাদের টেকনিক্যাল এবং সার্ভেইল্যান্স টিম কাজ করবে।”
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ধরন সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে এম এম জসিম উদ্দিন বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে মনে হচ্ছে শর্টসার্কিটের আগুন। আগুন কেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা বিস্মিত, কারণ ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। আবার তালা লাগানো থাকায় ভেতরের আগুন নেভানো যায়নি। মার্কেটের সব দিক পর্যবেক্ষণ করব। ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরাও ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করব। কমিটি তদন্ত করে দেখবে কারো গাফিলতি ছিল কি না, জনবল কম ছিল কি না। পাশাপাশি আগুনের কারণ কী, তাও দেখা হবে।’
বসুন্ধরা সিটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল—উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন এই মার্কেটে লাখের ওপরে দর্শনার্থী আসে। এখানে অগ্নিনির্বাপণসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস যে পানি ব্যবহার করেছে তার পুরোটা আমরা সরবরাহ করেছি। আগেরবার আগুন লাগার পর যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল তার শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে এবারের অগ্নিকাণ্ডের সময় অত্যন্ত নিরাপদে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং একটি স্থানে আগুন আটকে দেওয়া হয়েছে।’
ডাম্পিংয়ের কাজে বিলম্বের ব্যাপারে বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষের এই প্রতিনিধি বলেন, ‘আগুন কাগজ বা কাপড়ে ধরেনি। জুতার চামড়া ও কেমিক্যাল গলে গিয়ে পাথরের মতো হয়ে গেছে। সেগুলোর ফাঁকে আগুন ও ধোঁয়া আছে। দোকানগুলো খুলে প্রতিটি স্থানে এগুলো তল্লাশি করা হচ্ছে। এতে অনেকটা বিলম্ব হচ্ছে। আজ (গতকাল) সকাল থেকেই মার্কেটের মেইনটেন্যান্স দল কাজ করছে। মার্কেটের ভেতরে পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দুপুর থেকে বাইরে পানি অপসারণ করা শুরু হচ্ছে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মার্কেট চালু করা হবে জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আমাদের বুঝিয়ে দিলেই টেকনিক্যাল কমিটি বৈঠকে বসবে। মার্কেট কবে চালু করা যাবে সে সিদ্ধান্ত তখন নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের পরামর্শে এবং মার্কেটের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার কারণে এখন কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা সব ব্যবসায়ীকে তো চিনি না। ডাম্পিং শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তখন আপনাদেরও (সাংবাদিক) সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বসুন্ধরা সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এ এম হান্নান আজাদ বলেন, ‘বুধবারই (কাল) মার্কেট খোলার চেষ্টা করছি আমরা। ঈদের বাজার শুরু হচ্ছে। এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে সবারই ক্ষতি। আগুন মার্কেটে ছড়ায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও মার্কেটের উদ্ধারকারীদের সহায়তাই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণ করার আগে জুতা, ব্যাগ ও মোবাইলের বেশ কিছু দোকান পুড়ে গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আমরা এসব ব্যবসায়ীর ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করছি।’
গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটি পরিদর্শনে যান ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান। পরে তিনি বলেন, ‘মার্কেটের একটি জায়গায়ই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা মার্কেট চালু ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা করছে। বুধবারের মধ্যে মার্কেট খোলা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অজিত কুমার ভৌমিক বলেন, ‘আমরা তদন্তের কাজ এখনো শুরু করতে পারিনি। কারণ এখনো ডাম্পিং ও সুপ্ত আগুন নেভানোর কাজ চলছে। আগুন না থাকলেও জুতার দোকানে ধোঁয়া আছে। আগুন নেভানোর জন্য ঢালা পানিতে যাতে ভবনের নিচতলার দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য নিচতলা থেকে পানি বের করে ফেলার চেষ্টা করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আশা করি আগামীকাল (আজ) সকাল থেকে তদন্তের কাজ শুরু করতে পারব।’

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.