Pre-loader logo

শীর্ষে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’, তৃতীয় ‘কালের কণ্ঠ’

শীর্ষে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’, তৃতীয় ‘কালের কণ্ঠ’

মুদ্রণ সংস্করণে ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার পাঠক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দেশের জনপ্রিয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। আর ২৬ লাখ ৪০ হাজার পাঠক নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক কালের কণ্ঠ। এছাড়া পাঠকসংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রথম আলো। পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যা ৫৫ লাখ ৯২ হাজার। চতুর্থ অবস্থানে যুগান্তর, পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আমাদের সময়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত পরিচালিত ‘বাংলাদেশের ছাপা সংবাদমাধ্যমের কি মৃত্যু হবে?’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উপস্থান করা হয়। পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণায় আরো ছিলেন অয়ন দেবনাথ এবং জাহিদ আব্দুল্লাহ। গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিলেন অর্চি হক চৈতী।

আজ রাজধানীর ধানমন্ডির পরিপ্রেক্ষিত কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এ সময় গবেষক দলনেতা সৈয়দ বোরহান কবীর গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা। ধারণা করা হয়, নিকট ভবিষ্যতে এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রকেও ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী একটি বিষয় লক্ষণীয়, পশ্চিমা অনেক বড় মিডিয়া হাউজও তাদের ছাপা সংস্করণ বন্ধ করে অনলাইনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভবিষ্যত নিয়ে গবেষণা করেছে। এই গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ‘বাংলাদেশের ছাপা সংবাদমাধ্যমের কি মৃত্যু হবে?’।

গবেষণায় অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। তা হলো, বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের মৃত্যু এখনই হচ্ছে না। বরং ছাপা সংবাদপত্র আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের পাঠকসংখ্যাও বেড়েছে।

বাংলাদেশের এখন ২৩ শতাংশ মানুষ পত্রিকা পড়ে। সে হিসেবে এদেশে পত্রিকার পাঠক প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার পাঠক একাধিক পত্রিকা পড়েন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা জরিপ পরিচালনা করে। ‘প্রিন্ট মিডিয়ার কি মৃত্যু হবে?’ এই শিরোনামের গবেষণায় সারাদেশে এক হাজার লোকের সাাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের পাঠক বাড়ছে। এর প্রধান কারণ অনলাইন সংবাদকে এখনও মানুষ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে ৫৩ শতাংশ পরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেছেন।

হকারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রচারসংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার কপি (উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রতিদিন দৈনিক ছাপা হয় ৬ লাখ কপির ওপরে)। প্রথম আলোর প্রচারসংখ্যা দিনে গড়ে ৪ লাখ ৬৬ হাজার। কালের কণ্ঠ ২ লাখ ২০ হাজার কপি। আর যুগান্তরও আমাদের সময়ের প্রচারসংখ্যা যথাক্রমে ২ লাখ এবং ৭৬ হাজার কপি।

এই গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পত্রিকায় গড়ে ১২ জন মানুষের হাতে যায় বা পড়েন। সে হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মুদ্রণ সংস্করণের পাঠকসংখ্যা ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার। প্রথম আলোর পাঠকসংখ্যা ৫৫ লাখ ৯২ হাজার। কালের কণ্ঠের পাঠকসংখ্যা ২৬ লাখ ৪০ হাজার। যুগান্তর পড়ে থাকে ২৪ লাখ পাঠক। আর আমাদের সময়ের পাঠক প্রায় ৯ লাখ ১২ হাজার। এই গবেষণায় অনলাইন পাঠকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

জরিপে দেখা গেছে, দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকা পড়েন ৬৪ শতাংশ মানুষ। উত্তরদাতাদের শতকরা ২৭ জন বলেছেন, তারা অন্তত তিনটি পত্রিকা পড়েন। ৫৫ জন দুটি পড়েন। আর শতকরা ১৮ জন ১টি পত্রিকা পড়েন।

গবেষণা প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যে আরো দেখা যায়, জনপ্রিয়তার থেকেও বড় কথা হলো, একটি পত্রিকা পাঠকদের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য। প্রকৃতপক্ষে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করে সেই পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংবাদ বিশ্বাসযোগ্য। প্রথম আলোর সংবাদকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ২৩ শতাংশ মানুষ। আর ১১ শতাংশ পাঠকের মতে, ডেইলি স্টারকে সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্র মনে করা যায়।

পরিপ্রেক্ষিতের গবেষণা তথ্যে জানা গেছে, এক হাজার জন পাঠকের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মনে করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের পূর্বানুমান সঠিক হয়। প্রথম আলোর আগাম সংবাদ সঠিক হয় ২৬ শতাংশ। অন্যান্য পত্রিকার নাম বলেছে ২১ শতাংশ। এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা।

এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ পাঠক আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি সংবাদের কথা উল্লেখ করেছে। ওই খবরে বলা হয়েছিলো, ওবায়দুল কাদেরই আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন।

জরিপে দেখা গেছে, পাঠকদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ মনে করে বাংলাদেশ প্রতিদিন দল নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ করে। আর ২৩ শতাংশের মতে প্রথম আলোর সংবাদ নিরপেক্ষ। ডেইলি স্টারকে নিরপেক্ষ মনে করে ১১ শতাংশ পাঠক।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.