Pre-loader logo

শেখ রাসেলের দুর্দান্ত ড্র

শেখ রাসেলের দুর্দান্ত ড্র

প্রথম লেগে ময়মনসিংহে গিয়ে পয়েন্টের মুখ দেখেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। চার ম্যাচ হারার পর বিজেএমসির সঙ্গে ড্র করে। সেই ময়মনসিংহে গিয়ে এবার তারা গোলশূন্য ড্র করেছে শিরোপাপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে। সুবাদে নিজেরা মূল্যবান ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকায় দশম স্থানে থাকলেও বড় ক্ষতি করেছে চট্টগ্রাম আবাহনীর। ১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এক ম্যাচ কম খেলে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ঢাকা আবাহনী। এ রাউন্ডে কাল সহজ প্রতিপক্ষ বিজেএমসিকে হারালেই তারা ৪ পয়েন্টে এগিয়ে থাকবে।
ম্যাচে ফেভারিট ছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। প্রথম লেগে তাদের কাছে ২-১ গোলে হারের দুঃস্মৃতি অবশ্যই শেখ রাসেলকে পিছিয়ে রেখেছিল। তবে আগের ম্যাচে মৌসুমের বিস্ময়কর দল রহমতগঞ্জের বিপক্ষে জয়ে অবশ্যই বেড়েছিল তাদের মনের জোর। সেটি পুঁজি করে মাঠে নেমে তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র করে জিতেছে ১ পয়েন্ট। তাই রাসেল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক দারুণ খুশি, ‘এটা একরকম বোনাস পয়েন্ট। লিওনেলের গোলটা হয়ে গেলে আমাদের জন্য লড়াইটা কঠিন হয়ে যেত। আমাদের খেলোয়াড়রা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছে, তখন গোলের সুযোগও পেয়েছি আমরা।’ এই বোনাস পয়েন্ট শুধু শেখ রাসেলের জন্য নয়, চট্টগ্রাম আবাহনী ছেড়ে আসা এই কোচের জন্যও কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন। মৌসুমের শুরুতে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে শুরু করলেও খেলা মাঠে গড়ানোর আগে আগে দল ছেড়ে মানিক যোগ দিয়েছিলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডিতে। এরপর লিগের মাঝপথে এসে দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের।
‘বোনাস পয়েন্টের’ পেছনের গল্পের সূত্র হলো, প্রথমার্ধের শেষদিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর লিওনেল প্রেক্সের এক অমার্জনীয় মিস। এই হাইতিয়ান স্ট্রাইকার রাসেল গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করেছেন। সামনে শুধু ফাঁকা পোস্ট, ঠেললেই হয়। ঠেলার জন্য এত সময় নিয়েছেন যে পেছন থেকে দৌড়ে এসে মিসরীয় ডিফেন্ডার আহমেদ সাইদ হাসান গোললাইন সেভ করেন। এমন মিসের পর ম্যাচ জেতা কঠিন। অথচ আগের ম্যাচের বাজে পারফরমার ভুটানি ফরোয়ার্ড চ্যানচোকে বাদ দিয়ে এই হাইতিয়ানকে কাল একাদশে রেখেছেন কোচ। এরপরই ঘটে আরেক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, রাসেলের রুম্মনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে গিয়ে পা ভেঙেছেন আবাহনীর ডিফেন্ডার রেজাউল করিম। মাঠ থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সোজা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। এ মৌসুমে যে তিনি আর মাঠে নামতে পারছেন না, এটা একরকম নিশ্চিত। প্রথমার্ধে আবাহনী ভালো সুযোগ পেলেও কিন্তু সেরকম আধিপত্য ছিল না ম্যাচে। ইনজ্যুরড মামুনুল ইসলামের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে তাদের। মরক্কোর মিডফিল্ডার তারিক আল জানাবি খেললেও খেলার চেহারা বদলায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো খেলেছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। ৬৪ মিনিটে সেবাস্তিয়ান থুরির দূরপাল্লার শট সোজা আশরাফুল ইসলামের গ্রিপে জমে যায়। তার একটু বাদে এই হাইতিয়ান স্ট্রাইকারের শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও ফিরিয়ে দিয়েছে ক্রসবার। এরপর গোলের আরেকটি দুর্দান্ত সুযোগ হাতছানি দিয়েছিল শেখ রাসেলকে। নাসিরুল ইসলামের কাটব্যাকে গোলমুখ খুলে যায়। কিন্তু সুযোগটা নষ্ট করেছেন সাখাওয়াত হোসেন রনি। আগের ম্যাচে জোড়া গোলের নায়ক বলটি মেরেছেন এক ডিফেন্ডারের গায়ে। এই সুযোগ নষ্ট করার জন্য আক্ষেপ হতেই পারে শেখ রাসেলের।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.