Pre-loader logo

শেখ রাসেলের রাজকীয় দলবদল

শেখ রাসেলের রাজকীয় দলবদল

ঢাক-ঢোল বাদ্য-শানাইয়ের সুরে পুরো পরিবেশটাই মূহৃর্তে মধ্যেই কেমন যেন বদলে গেল। এর আগে বাফুফে ভবনের গেটের সামনে জনকয়েক সাংবাদিকের জটলা পরিবেশকে জানা দিচ্ছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু ওই কিছু একটা যে এমন আড়ম্বরপূর্ণ হবে, কে ভেবেছিল! বাফুফে ভবনে যেন উৎসব লেগে গেল! ১০টা টমটম। রাজকীয় ভাবগাম্ভীর্যে সাজানো। ফুটবলার, কোচিং স্টাফ আর টিম ম্যানেজমেন্ট। সঙ্গে ব্যান্ডদল। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ক্লাব ভবন থেকে যাত্রাকালেই বাদ্য বাজতে লাগল। সে বাদ্য বাফুফে ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে থামল। সঙ্গে উত্সুক পথচারীদের হাতে চকলেট বিলিয়ে দেশের জনপ্রিয় ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের দলবদল অনুষ্ঠানটা রাজকীয়ভাবেই হলো।
গতকাল বিকালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সহসভাপতি মীর সমির, পরিচালক (ক্রীড়া) সালেহ জামান সেলিম এবং মাকসুদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দলবদলের নথিপত্র বাফুফে সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর হাতে তুলে দেন শেখ রাসেল কর্মকর্তারা। এ সময় শেখ রাসেলের প্রায় সব ফুটবলারই উপস্থিত ছিলেন। এ দলবদলে মোট ২৮ জনের তালিকা দিয়েছে শেখ রাসেল। এবার শেখ রাসেলে যোগ দিয়েছেন ইথিওপিয়ান স্ট্রাইকার ফিকরু। আছেন ক্যামেরুনের ইকাঙ্গাও। তাছাড়া শেখ জামাল, ঢাকা আবাহনী, মোহামেডান এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে অনেক তারকা ফুটবলারই এবার যোগ দিয়েছেন শেখ রাসেলে। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত এক দল গঠন করেছে তারা। লক্ষ্য মৌসুমের প্রতিটি ট্রফি ঘরে তোলা।
রাজকীয় দলবদল অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক দৃঢ় কণ্ঠে ট্রেবল জয়ের কথা জানালেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই এবার দল গঠন করা হয়েছে। মৌসুমের সব শিরোপাই এবার আমরা জিততে চাই।’ এর আগে কোচ মারুফুল হকের অধীনেই ট্রেবল জিতেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। মধ্যখানে তারা প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা হারিয়েই গিয়েছিল। তবে গত বছর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ক্লাবের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে শেখ রাসেলের চেহারা। চলতি মৌসুমে তারা প্রিমিয়ার লিগের সেরা দলই গঠন করেছে। ছয় সপ্তাহ আগেই অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছেন মারুফুল। ফিটনেস ঠিক করার পাশাপাশি মানসিক দিক থেকেও ফুটবলারদের উন্নত করে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। দলের তারকা স্ট্রাইকার ইথিওপিয়ান ফিকরু বলেন, ‘আমি একজন চ্যাম্পিয়ন, এখানেও চ্যাম্পিয়নই হতে চাই।’ তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশের ফুটবলারদের দেখে অবাক হয়েছি। এতটা ভালোমানের ফুটবলার এখানে আছে, এটা আমি ভাবতেই পারিনি।’ বিশেষ করে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দারুণ আশাবাদী এ স্ট্রাইকার। শেখ রাসেলকে নিয়ে আশাবাদী বাফুফে সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীও। তিনি বলেন, তারা দারুণ দল গঠন করেছে। আশা করি ভালো খেলা উপহার দিবে। শেখ রাসেলের সহসভাপতি মীর সমির বলেন, ‘ফুটবলে ভালো কিছু করতে হলে সব ক্লাবকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন বাফুফের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতাও।’ ক্লাবের পরিচালক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের ফুটবলে পুরনো সেই জোয়ার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।’ গতকাল দলবদল অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান, মীর মো. শাহাবুদ্দীন টিপুসহ অন্য কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে লাগাতার ব্যর্থতায় দেশের ফুটবল ঝিমিয়ে ছিল। গতকাল শেখ রাসেলের রাজকীয় দলবদলে প্রমাণ মিলল ফুটবলে জনপ্রিয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.