Pre-loader logo

‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংরক্ষণে কাজ করি’

‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংরক্ষণে কাজ করি’

ভারতের প্রেস কাউন্সিলের (পিসিআই) চেয়ারম্যান বিচারপতি চন্দ্রমৌলি কুমার প্রসাদ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য কাজ করছি। সংবাদপত্রকে সহায়তা দিচ্ছি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের একটি কমিটি আছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া নিজে থেকেই এর প্রতিকার করে থাকে। শুধু প্রিন্ট মিডিয়া নয়, সব মিডিয়ার সাংবাদিকদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সংবাদপত্র দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডেইলি সান, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ.২৪ এবং টিভি চ্যানেল নিউজ২৪-এর সম্পাদক, উপদেষ্টা সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিসিআই সেক্রেটারি পুনম সিবাল ও ৯ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা থেকে প্রকাশিত হিন্দি সংবাদপত্র ‘ছাপতে ছাপতে’-এর সাংবাদিক বিপিন নেওয়ার, উত্তর প্রদেশের জানমোর্চার সম্পাদক ড. সুনম গুপ্তা, মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ভাস্করের গ্রুপ এডিটর প্রকাশ দুবে, হায়দরাবাদের সাংবাদিক কসুরি অমরনাথ, দিল্লির আজসমাজ পত্রিকার সাংবাদিক রাজীব রঞ্জন নাগ, কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী, দিল্লির সাংবাদিক এস এন সিনহা, দিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য শিলং টাইমসের সি কে নায়েক, কলকাতার দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবীন্দ্র কুমার।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও নিউজ২৪-এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক নঈম নিজামের সঞ্চালনায় ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ডেইলি সানের সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, উপদেষ্টা সম্পাদক আমির হোসেন, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, নিউজ২৪-এর হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে পিসিআইয়ের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জানান, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যেকোনো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী।
মতবিনিয়ম অনুষ্ঠানে পিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে তাদের আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে পড়শি দেশের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করা। পিসিআই আগামী ১৬ নভেম্বর তাদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সার্কভুক্ত দেশের প্রেস কাউন্সিলগুলোকে পাশে চায়। এ জন্য ওই সব প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের নিমন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ থেকে প্রথমেই বিভিন্ন তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের প্রেস কাউন্সিলের সঙ্গে ভারতের প্রেস কাউন্সিলের একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিকারে পিসিআই কিভাবে কাজ করছে তার উদহারণ হিসেবে বিচারপতি চন্দ্রমৌলি কুমার প্রসাদ সম্প্রতি ভারতের বিহারের প্রত্যন্ত এলাকায় ‘হিন্দুস্তান’ পত্রিকার একজন সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি করি। ওই কমিটি সফলভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করে। হত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়। সে সুপারিশ অনুসারে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এবং হত্যাকাণ্ড তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেন্ট্রাল এজেন্সিকে। সাংবাদিকদের ওপর যখন হুমকি আসে তখন আমরা নিজে থেকেই তার প্রতিকারের লক্ষ্যে কাজ করি।’ তিনি বলেন, ভারতের প্রেস কাউন্সিল সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করে। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত প্রেস কাউন্সিলের রায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ছাড়া অন্য আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। ভারতের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার প্রতি সবার আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামের নামে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। বাংলাদেশের এ সচেতনতা প্রশংসনীয়। আসলে কোনো ধর্মেই সন্ত্রাসের প্রশ্রয় নেই।
বিচারপতি চন্দ্রমৌলি কুমার প্রসাদ বলেন, ‘পেইড নিউজ এখন একটি বড় সমস্যা। সারা বিশ্বেই এ সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণ করা মুশকিল। সোশ্যাল মিডিয়া পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা ফেসবুকে সংবাদপত্র সম্পর্কে অবমাননাকর কথা লিখেছিলেন। আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুয়োমটো করি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে ভারতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে পিসিআইয়ের এক সদস্য বলেন, এটি বিদ্যমান গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ। সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে আনগাইডেড মিসাইল, যা প্রত্যেকের হাতে রয়েছে।
অপর এক সদস্য বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রের পাঠকও বাড়ছে। তবে বাংলাদেশের সংবিধানে ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাক তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেওয়া হলেও ভারতে তা নেই।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.