Pre-loader logo

সবই মেলে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে

সবই মেলে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ ও জমজমাট শপিং মল ‘বসুন্ধরা সিটি’। পান্থপথে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিপণিবিতানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবই মেলে। পায়ের স্যান্ডেল থেকে শুরু করে মাথার মুকুট—কী নেই সেখানে! সুবিশাল এ শপিং মলে এক ছাদের নিচে আছে নানা ধরনের পণ্যের বিশাল সম্ভার। এ কারণে বরাবরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে জমজমাট বসুন্ধরা সিটি।
গতকাল শনিবার বসুন্ধরা সিটি ঘুরে দেখা যায়, বিপুল ক্রেতার উপস্থিতিতে জমজমাট গোটা বিপণিবিতান। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পাশাপাশি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও ঈদের কেনাকাটার জন্য বেছে নিয়েছে এই শপিং মলকে। বেইসমেন্ট থেকে শুরু করে লেভেল-৭ পর্যন্ত সারি সারি দোকান। প্রতিটি দোকানেই রয়েছে নানা পণ্যের সমাহার। পোশাক, শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, প্রসাধনী, গয়না থেকে শুরু করে ঘর-গৃহস্থালির সামগ্রী, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেইলার্স সুবিধা—সবই একসঙ্গে মিলছে এখানে। নামিদামি ব্র্যান্ড থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে দেদার।
বেইসমেন্টে আছে সিঙ্গাপুরের নামিদামি চেইনশপ মোস্তফা মার্ট। প্রায় ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিটের সুপরিসর দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে আমদানি করা পোশাক, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, রান্নাঘর ও গৃহসজ্জার উপকরণসহ নিত্যব্যবহার্য হরেক রকম পণ্য। মোস্তফা মার্টের ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় দুই হাজার জাতের পণ্য আছে। ঈদ উপলক্ষে বিপুল দর্শনার্থী আসছে। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ক্রেতার উপস্থিতি ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি। আমাদের বেশির ভাগ পণ্যই বিদেশি। দেশের কিছু ব্র্যান্ডও আছে।’
বেইসমেন্ট পেরিয়ে বসুন্ধরা সিটির লেভেল-১ থেকে লেভেল-৭ পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেল, বিপুল ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি। প্রায় সবার হাতেই কেনাকাটা করা ব্যাগ। দোকানিরা জানায়, প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। বাড়ছে বিক্রিবাট্টাও। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আসছে সব বয়সের ক্রেতাই। অনেকে আসছে সপরিবারে কেনাকাটা করতে। আজিমপুর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়ের জন্য জামা ও জুতা কিনেছি। নিজের জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি। স্ত্রীর জন্য কিনেছি থ্রিপিস।’ বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে কেমন লাগছে জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটি বেশ গোছানো, পরিপাটি শপিং মল। মোটামুটি সব কিছু একই জায়গায় পাওয়া যায়। বেশি ঘোরাঘুরি করতে হয় না। প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য এসে ফিরে গেছি, তেমনটি কখনো হয়নি। তাই সব সময় এখান থেকেই কেনাকাটা করি।’
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করতে এখানে আসে। গাজীপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সাইফুল ইসলাম। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে ভালো শপিং মল নেই। তাই ঢাকা থেকেই প্রতিবছর ঈদ শপিং করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটির বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে দর-কষাকষির ভেজাল নেই। নির্ধারিত দামে ভালো জিনিসটা কিনতে পারি।’
লেভেল-৪-এ আছে অন্যমেলার বিশাল শোরুম। ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশীয় পোশাক বিক্রি করি। দিন দিন বাড়ছে দেশজ পোশাকের প্রতি মানুষের আগ্রহ। ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে বিক্রিবাট্টাও।’
বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৭-এ আছে ১০টি দেশীয় ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে ‘দেশী দশ’। প্রতিটি দোকানেই সাজানো থরে থরে দেশীয় পোশাকের সম্ভার। এখানেই কথা হলো ধানমণ্ডির গৃহিণী সানজিদা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পছন্দসই প্রচুর পোশাক আছে এখানে। যে কেউ নিজের সাধ্যমতো পোশাকটি কিনতে পারেন। কাপড়ের মানও ভালো, ডিজাইনও ভালো। ফলে এখান থেকেই আমি প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করি।’
বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে সবাই এনেছে নিত্যনতুন ডিজাইন আর রঙের পোশাক, ফ্যাশন সামগ্রী ও প্রসাধনী। ফলে ক্রেতারা পাচ্ছে হাল ফ্যাশনের নানা জিনিসপত্র। এ ছাড়া রয়েছে স্ক্র্যাচ কার্ড ঘষে নিশ্চিত উপহার পাওয়ার সুযোগ। এ ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার পণ্য কিনলেই দেওয়া হচ্ছে স্ক্যাচ কার্ড, যা ঘষলে করোলা ব্র্যান্ডের প্রাইভেট কারসহ থাকছে নানা আকর্ষণীয় উপহার। এরই মধ্যে একজন কার্ড ঘষে জিতে নিয়েছেন একটি বাইক।
বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের কর্মকর্তারা জানান, একজন ব্যক্তি কেনাকাটা করে সর্বোচ্চ ১০টি কার্ড নিতে পারবেন। বেশির ভাগ কার্ডেই থাকছে উপহার। এর মধ্যে আছে একটি প্রাইভেট কার, ছয়টি মোটরসাইকেল (ইয়ামাহা), থাইল্যান্ড ভ্রমণ (যুগল), হাতঘড়ি, ফ্রিজ (মিনিস্টার), এলইডি টিভি (৩২ ইঞ্চি), ডায়মন্ড রিং, স্মার্টফোন, ব্লেন্ডার মেশিন, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক আয়রন, কফি মগ, দুই হাজার ৫০ টাকার টগি ওয়ার্ল্ড গিফট কুপন, বসুন্ধরা টিস্যু ভ্যালু প্যাক, বসুন্ধরা ফুড ভ্যালু প্যাক, বসুন্ধরা নুডলস ও ১০০ টাকা মূল্যের প্রাইজ বন্ডসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.