Pre-loader logo

সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ পাঠক নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন শীর্ষে

সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ পাঠক নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন শীর্ষে

অর্ধযুগ ধরে একটানা বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকার স্থান ধরে রেখেছে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’। প্রায় এক কোটি ৬ লাখ পাঠকের নির্ভরতায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের জরিপেই অনন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। গত সপ্তাহেই জাতীয় সংসদে তথ্যমন্ত্রী প্রচার সংখ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন। একই তথ্য উঠে এসেছে বহুজাতিক গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ মিডিয়া, পরিপ্রেক্ষিত এবং সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের মিডিয়া সার্ভে ২০১৮-তেও। কোটি মানুষের প্রিয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই পাঠকপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন ৬ লাখ ১০ হাজার প্রিন্টকপি প্রকাশের পরও মেটানো যাচ্ছে না পাঠকের চাহিদা। আরও প্রায় ৫ লাখ প্রিন্টকপির চাহিদার কথা জানিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংবাদপত্র এজেন্টরা।
গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত এবং সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের মিডিয়া সার্ভে ২০১৮-তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যাও বেড়েছে। বাংলাদেশের এখন ২৩ শতাংশ মানুষ পত্রিকা পড়ে। সে হিসেবে এ দেশে পত্রিকার পাঠক প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার পাঠক একাধিক পত্রিকা পড়েন। মোট পাঠকের ৫৪ শতাংশই দল-নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওপর আস্থা রাখছেন বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণা বলছে, শুধু মুদ্রণ সংস্করণে ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার পাঠক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
অবশ্য গবেষণায় শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তথ্য উপস্থাপিত হলেও বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে বেশ আগেই। এখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ সংস্করণের প্রিন্ট ভার্সন কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি পৌঁছাচ্ছে নিয়মিতভাবেই। এসব দেশের প্রবাসীদের জীবনের একটি অংশ হতে চলেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। অবশ্য বিশ্বের সব অংশের প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের কাছে ইন্টারনেটে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। প্রতিনিয়ত আপডেট হওয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন ভার্সনে বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশে পড়া হচ্ছে। এর পেজ ভিউ দৈনিক গড়ে ১০-১২ লাখ। এ ছাড়া অনলাইন ভার্সনের পাশাপাশি প্রিন্ট ভার্সনের ইন্টারনেট প্রতিরূপ ই-পেপারগুলোতে (দৈনিক পত্রিকা, ফ্রাইডে, শনিবারের সকাল, ইউরোপ সংস্করণ, উত্তর আমেরিকা সংস্করণ) রয়েছে বড় সংখ্যক পাঠক। অন্যদিকে এসএমএস এবং পুশপুল সার্ভিসের রয়েছে ৫০ হাজার পাঠক। সব মিলিয়ে পাঠক সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ। এই সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠকপ্রিয়তার এ তথ্য নতুন নয়। জাতীয় সংসদে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর, ২০১৩ সালের ১২ জুন, ২০১৪ সালের ১১ মার্চ, ২০১৫ সালের ৩ মার্চ এবং ২৯ মার্চ, ২০১৬ সালের ৪ মে, ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষস্থানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার জাতীয় সংসদে পেশ করা গণমাধ্যম পরিসংখ্যানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শীর্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করা প্রবাসীদের কাছেও বাংলাদেশ প্রতিদিনের রয়েছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। পাঠক চাহিদা মেটাতে ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক ও লন্ডন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংস্করণ। পাঠকের আগ্রহে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকেও প্রকাশের পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন সংস্করণের পাঠক রয়েছেন বিশ্বব্যাপী। প্রতিনিয়ত এতে আপডেট হচ্ছে দেশ-বিদেশের তাজা খবর। আবার এসএমএস পুশপুল সার্ভিসের মাধ্যমেও অর্ধলক্ষাধিক পাঠক পাচ্ছেন তাত্ক্ষণিক সংবাদের সেবা। এতকিছুর পরও মেটানো যাচ্ছে না পাঠক চাহিদা। ঢাকার পত্র-পত্রিকা বিতরণকারী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রচার সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। অন্যান্য সব পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। আমি মনে করি, পত্রিকাটি শীর্ষে থাকার পেছনে তার নিজস্ব কিছু কৌশল আছে। অল্প পৃষ্ঠার মাঝে অধিক খবর পাওয়া, দামে কম, কম সময়ে একবার চোখ বুলিয়েই মানুষ সব খবর পেয়ে যায়, পাতার সংখ্যা কম হওয়ায় বহনেও সুবিধা। আমি মনে করি বাংলাদেশ প্রতিদিনই একমাত্র পত্রিকা, যে পাঠককে ফাঁকি দেয় না। তাদের কাছে খবরটাই আসল। পাঠকদের জন্য তাই কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় না। তারা কম সময়ে দেশ-বিদেশের খবর সম্পর্কে জেনে যেতে পারে। বাজারে যত সংখ্যক বাংলাদেশ প্রতিদিন আছে বাস্তবে তার চাহিদা আরও দ্বিগুণ।’ ঢাকার সংবাদপত্র হকারস কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমার এলাকায় দুটি পত্রিকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ প্রতিদিন আর প্রথম আলো। তবে বিক্রির ক্ষেত্রে পার্থক্য বোঝা যায়। প্রতিদিন ‘দৈনিক প্রথম আলো’ আসে ৪০ হাজার কপি, ফেরত যায় ৪ হাজার কপি। কিন্তু ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’ আসে ৪৫ হাজার কপি। পুরোটায় বিক্রি হয়ে যায়, ১ কপিও ফেরত দিতে হয় না। পত্রিকাটির জনপ্রিয়তার পেছনে প্রধান কারণ, যে কেউ কাজের মাঝে থেকেও এক মিনিট চোখ বুলিয়ে সব ধরনের সংবাদ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাওয়া এবং প্রত্যন্ত এলাকার পাঠক থেকে শুরু করে সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য গেটআপ, সেটআপের পত্রিকা।’
সিলেটের এজেন্ট ইসমাইল হোসেন জানান, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার চাহিদা অন্য পত্রিকার চেয়ে বেশি। যে পরিমাণ পত্রিকা আমাদের এখানে আসে তার কোনো কপিই ফেরত দেওয়া লাগে না। পত্রিকাটির পাঠকপ্রিয়তা লাভের অন্যতম কারণ হলো অল্প দাম। এই যুগে সবকিছুর দাম যেখানে ঊর্ধ্বগতি সেখানে মাত্র ৫ টাকায় একটি পত্রিকা পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার দেশি-বিদেশি সব ধরনের খবরই তারা পরিবেশন করে থাকে। পত্রিকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সংক্ষিপ্ত বিবরণে অধিক সংবাদ পরিবেশন। মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় বেশি সময় নিয়ে খবর পড়ার সময় নেই। তাই তাদের জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিন উপযোগী একটি পত্রিকায় পরিণত হয়েছে।’ রাজশাহীর এজেন্ট জুগলী কিশোর বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনের চাহিদা সর্বস্তরে একই রকম। পত্রিকার গেটআপ, সংক্ষিপ্ত আকারে অধিক নিউজ পরিবেশন, ধারাবাহিক কিছু ফিচার পাঠককে আকর্ষণ করে। সীমিত দামের একটি পত্রিকায় এতকিছু একসঙ্গে পেয়ে পাঠকের সন্তুষ্টি বজায় থাকে। চলতি পথে বা কাজের ফাঁকে একটু দৃষ্টি বুলিয়েই অনেকে শীর্ষ খবরগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারে। সংবাদ দীর্ঘ করে পাঠকের একঘেয়েমি আনে না। আমি মনে করি বাংলাদেশ প্রতিদিন জনপ্রিয়তার পেছনে এই কারণগুলোই বেশি কাজ করে।’ খুলনার এজেন্ট হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘সবার আগ্রহ বেশি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতি। বাংলাদেশ প্রতিদিন পাঠক থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে খুব ভালো যোগাযোগ রক্ষা করে। পাঠকের পছন্দ অনুযায়ী সংবাদ পরিবেশন করে। কম দামের একটি পত্রিকায় পাঠক যখন নিজেদের পছন্দের সবকিছু পেয়ে যায় তখন তার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। এই কারণেও বাংলাদেশ প্রতিদিন পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে বলে আমি মনে করি।’ বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাঠকের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যারা পত্রিকার ব্যবসায় জড়িত আছি তারাও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ভক্ত। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে আমি এই ব্যবসায় আছি। একমাত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন তার নিজস্ব কৌশল দিয়ে পত্রিকা বাজারে যে দাপট তৈরি করেছে তা অন্যদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। অন্য পত্রিকার কালেকশনের জন্যও বহু টাকা ব্যয় করতে হয়, সার্কুলেশনের জন্য জনবল নিয়োগ দিতে হয়। এই পত্রিকা সেদিক থেকে অনেক বেশি সাশ্রয় লাভ করে। তাদের জনপ্রিয়তা থাকায় অফিস থেকেই পরিচালনার কাজ করে থাকে।’

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.