Pre-loader logo

Independence museum must for every dist: Sayem Sobhan Anvir

Independence museum must for every dist: Sayem Sobhan Anvir

জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তখন মানুষের জীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘নতুন স্বাভাবিক’ জীবন। এর আগ পর্যন্ত দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।

দেশের আটজন জনস্বাস্থ্যবিদ করোনা সংক্রমণের পরিসমাপ্তি বিষয়ে এই সময়চিত্র (টাইমলাইন) দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, করোনা সংক্রমণের আগের দেশ ও সমাজ হয়তো নিকট ভবিষ্যতে ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে জুনের শেষ নাগাদ সংক্রমণ অনেক কমে আসতে পারে। হাসপাতালে রোগী ও মৃত্যু কমে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে গত শনিবার সকালে এই পূর্বাভাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপস্থাপনা দেওয়া হয়। একাধিক বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ কথা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসের বিষয়ে ওই আটজন বিশেষজ্ঞের বাইরে একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বিশেষজ্ঞ প্রথম আলোকে বলেন, এই ধরনের প্রক্ষেপণে সাধারণত গাণিতিক মডেল ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অনেক মৌলিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের দরকার হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার ঘাটতি আছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে সারা বিশ্ব বিপর্যস্ত। প্রায় প্রতিটি দেশ অন্য দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ব্যবসা–বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ৪৩ জেলা লকডাউন (অবরুদ্ধ)। স্কুল–কলেজ ছুটি। একই পরিবারের সদস্যরা নানা জায়গায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছেন। কাজ নেই অনেকের। এরই মধ্যে নতুন সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। মানুষ জানতে চায়—এই দমবন্ধ পরিস্থিতি কবে শেষ হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটি সেই সময়ের একটি আভাস দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মুনির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হবে জুনের শেষ নাগাদ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আমরাও বলতে চাই, এই ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ থাকার পূর্বাভাস দেওয়ার সময় এখনো আসেনি।’

অধ্যাপক শাহ মুনির ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ দলে আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরও একজন সাবেক মহাপরিচালক, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করেন এমন একটি বিদেশি সংস্থার সাবেক প্রধান। ওই আটজন বিশেষজ্ঞ দেশের আট বিভাগের করোনা বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেন।

দেড় সপ্তাহ আগে এই বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, মে মাসের শেষ নাগাদ দেশে ৪৮ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। এই প্রক্ষেপণের ভিত্তি ছিল করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন দেশে বিস্তারের ধরন, বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার, জনমিতি, আবহাওয়া, সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ—এ রকম আরও বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশেষজ্ঞ দলের একজন প্রথম আলোকে বলেছেন, এ ধরনের পূর্বাভাস বা প্রক্ষেপণের জন্য যে পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য দরকার হয়, তা তাঁদের কাছে নেই। যেমন দেশের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব অনুযায়ী দিনে কমপক্ষে ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা হওয়া দরকার। বর্তমানের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে ৬ হাজারের বেশি। তবে তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছাড়াও অন্য গ্রহণযোগ্য তথ্য প্রতিদিন সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের চেষ্টা করছেন।

 

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.