All news

শিক্ষার্থীদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ৬ সহস্রাধিক কোরআন শরিফ বিতরণ

শিক্ষার্থীদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ৬ সহস্রাধিক কোরআন শরিফ বিতরণ

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফ বিতরণ করেছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের রাবেয়া মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরআন শরিফ বিতরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আমির ফয়সালের সভাপতিত্বে ও বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. চান মিয়া সরকারের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর টু চেয়ারম্যান বসুন্ধরা গ্রুপ মো. আবু তৈয়ব, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী, সলিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা খান দিপু, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, বাঞ্ছারামপুর সোবহানিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীন আবদুল্লাহ, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেনসহ প্রমুখ।

দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

এ সময় কোরআন শরিফ হাতে পেয়ে খুব খুশি হয় শিক্ষার্থীরা। জানায় ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া বলে, ‘আমাদের স্কুলে বিনামূল্যে প্রতিদিন কোরআন শেখানো হয়। আমরা কোরআন পড়তে পারি।

এইবার অর্থসহ কোরআন শরিফ পেয়েছি। বুঝে শুনে এখন পড়তে পারব। এমন সুন্দর একটা উপহার পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।’
অষ্টম শ্রেণির তাহিয়া বলেন, ‘অর্থ, তর্জমাসহ কোরআন শরিফ খুব কাজে লাগবে।

আরবি পড়ে এর অর্থও বুঝতে পারব। কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
গোলাম মাওলা খান দিপু বলেন, ‘এমন একটি মহতি উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা এই কোরআনকে জেনে বুঝে পড়বে এবং এর আদর্শ বুকে ধারণ করে চলবে। তোমাদের জীবন আলোকিত হোক।’
ইংরেজি বিভাগের সহকারি শিক্ষক নূর হোসেন বলেন, ‘আজ আমি একটি অন্য রকম আয়োজনে কথা বলছি। এর চেয়ে সুন্দর আয়োজন আর হতে পারে না। মহাগ্রন্থ আল কুরআন আমাদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আমার মনে হয় এটাই হবে তোমাদের জীবনের সবচেয়ে দামি উপহার। আজ বসুন্ধরা গ্রুপ তোমাদের সেই সেরা উপহারটি তুলে দিয়েছে। তোমরা কোরআনের আলোয় নিজেদের জীবন গড়ে তোলো।’

রুহুল আমীন বলেন, ‘এমন একটি মহতি আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তোমাদের সবার জন্য, বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া করি। আজকে যারা পবিত্র কোরআন পেয়েছ তোমরা অনেক ভাগ্যবান। বাংলা অর্থসহ এমন কোরআন শরিফ পেয়ে তোমরা এর মর্মার্থ বুঝতে পারবে। বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।’ 

মো. আবু তৈয়ব বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা। কয়েক দিন পরেই রমজান মাস শুরু হবে। রমজানে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করলে অনেক নেকি পাওয়া যায়। কোরআন মানুষকে আলোর পথ দেখায়। ভালো-মন্দ বুঝতে শেখায়। অর্থসহ কোরআন পড়ে তোমরা নিজেকে আলোকিত করবে, অন্যকে ভালোমন্দের ভেদাভেদ শেখাবে। কোরআন মানব জাতির অনন্য দলিল। ইহকাল পরকালের মুক্তির সনদ। বুঝে কোরআন পড় এবং এর আলোকে জীবন গড়ে তোলো।’

ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিবছরই কোরআন শরিফ বিতরণ করে বসুন্ধরা গ্রুপ। আজকে যারা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে কোরআন শরিফ পাচ্ছো, আল কোরআনের আলোয় তোমাদের জীবন আলোকিত হোক। বাংলা অর্থ, তর্জমাসহ এই কোরআন শরিফ পড়ে তোমরা নিজেকে সমৃদ্ধ করবে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তোমাদের সবার মঙ্গল হোক। আমাদের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের জন্য দোয়া করবে। আল্লাহ যেন তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে দীর্ঘজীবী করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপ এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক মো. আমির ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক সবার জীবন।’

SOURCE : কালের কণ্ঠ